নয়াদিল্লি: নিট-ইউজি (NEET-UG) ২০২৬-এর পুনর্পরীক্ষার আগে জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামের (Telegram) ওপর কেন্দ্রীয় সরকারের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তকেই বহাল রাখল দিল্লি হাইকোর্ট। শুক্রবার বিচারপতি তেজস কারিয়ার সিঙ্গল বেঞ্চ জানিয়েছে, প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষায় জালিয়াতি রুখতে সরকারের নেওয়া এই সাময়িক পদক্ষেপটি সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত এবং সমানুপাতিক। তথ্যপ্রযুক্তি আইনের (IT Act) ৬৯এ ধারায় সরকারের জারি করা এই নির্দেশিকাকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল টেলিগ্রাম কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এদিন তাদের সেই আর্জি খারিজ করে দিয়েছে আদালত। (Telegram Ban NEET UG 2026)
কেন টেলিগ্রামের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা?
গত ৩ মে দেশজুড়ে আয়োজিত মূল নিট-ইউজি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস এবং ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এর জেরে সেই পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বর্তমানে এই ঘটনার তদন্ত করছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই (CBI)। সরকারের আশঙ্কা, পুনর্পরীক্ষার সময়ও টেলিগ্রাম অ্যাপ ব্যবহার করে সংগঠিত নকল চক্র বা ‘চিটিং নেটওয়ার্ক’ পুনরায় সক্রিয় হতে পারে।
ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (NTA) সুপারিশের ভিত্তিতে, ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক (MEITY) আগামী ২২ জুন পর্যন্ত ভারতে টেলিগ্রামের অ্যাক্সেস সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয়।
পাশাপাশি, আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত টেলিগ্রামে পাঠানো পুরনো মেসেজ ‘এডিট’ করার অপশনও বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্ল্যাটফর্মটিকে।
আদালতে টেলিগ্রামের যুক্তি
কেন্দ্রের এই নির্দেশিকাকে চ্যালেঞ্জ করে টেলিগ্রামের দাবি ছিল, তাদের অন্যায্যভাবে নিশানা করা হচ্ছে। অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মকে কাজ করতে দেওয়া হলেও তাদের ক্ষেত্রে সংবিধানের ১৪ নম্বর ধারা লঙ্ঘন করা হচ্ছে। টেলিগ্রামের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী ধ্রুব মেহতা জানান, গত মে মাস থেকে তারা সরকারি সংস্থাগুলির সঙ্গে সবরকম সহযোগিতা করছে। গত ৯ জুন সরকার নির্দিষ্ট কিছু ইউআরএল (URL) দেওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই সেগুলি মুছে ফেলা হয়েছে।
বেআইনি কনটেন্ট যুক্ত ৯০০টিরও বেশি লিঙ্ক তারা ডিলিট করেছে এবং নীতি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে নজরদারি চালাতে কৃত্রিম মেধা (AI) ও হিউম্যান মডারেশন টিমের ব্যবহার করা হচ্ছে।
কেন্দ্রের কড়া জবাব
আদালতে কেন্দ্রের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে এবং পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সবথেকে কম ক্ষতিকারক পদক্ষেপটিই বেছে নিয়েছে সরকার। তিনি উল্লেখ করেন, টেলিগ্রামের কাঠামোগত বৈশিষ্ট্যের কারণে অপরাধীদের ধরা কঠিন। কারণ, সেখানে অ্যাকাউন্ট ডিলিট করলে এর সমস্ত সংরক্ষিত ডেটা এবং মেসেজ মুছে যায়।
অ্যাটর্নি জেনারেল আর. ভেঙ্কটরামানি আরও কড়া ভাষায় বলেন, “টেলিগ্রামের এই কাঠামোর কারণে এটি একটি ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন’-এ পরিণত হয়েছে। টাকার বিনিময়ে তৈরি একটি প্ল্যাটফর্ম যখন সমানুপাতিকতার (Proportionality) যুক্তি দেয়, তখন তা একেবারেই ভিত্তিহীন। দেশ যদি এই ধরনের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিতে পারে, তবে আমরা কোথায় যাব?”
উভয় পক্ষের দীর্ঘ সওয়াল-জবাব শোনার পর গত ১৮ জুন রায়দান স্থগিত রেখেছিল দিল্লি হাইকোর্ট। শুক্রবার টেলিগ্রামের আর্জি খারিজ করে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তেই সিলমোহর দিল আদালত।



