ভোটার তালিকা সংশোধনে বাধা দিলে কড়া ব্যবস্থা, রাজ্য সরকারকে সুপ্রিম সতর্কতা

নয়াদিল্লি: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় কোনো “প্রতিবন্ধকতা” সৃষ্টি করা যাবে না৷ সোমবার রাজ্য সরকারকে কড়া সতর্কবার্তা দিল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি…

Mamata Banerjee SIR Case

নয়াদিল্লি: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় কোনো “প্রতিবন্ধকতা” সৃষ্টি করা যাবে না৷ সোমবার রাজ্য সরকারকে কড়া সতর্কবার্তা দিল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা এই প্রক্রিয়ায় কোনো বাধা বরদাস্ত করবে না, তবে কোনো বাস্তব সমস্যা থাকলে তা সমাধান করা হবে।

সময়সীমা এক সপ্তাহ বাড়াল সুপ্রিম কোর্ট

নির্বাচন কমিশনের (ECI) অধীনে চলা ভোটার তালিকা সংশোধনের এই প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা আবেদনের শুনানিতে এই সতর্কতা জারি করা হয়। শুনানি শেষে শীর্ষ আদালত বাংলায় এসআইআর-এর আবেদনগুলি যাচাইকরণ এবং চূড়ান্ত ডেটা প্রকাশের সময়সীমা এক সপ্তাহ বাড়িয়ে দিয়েছে। বেঞ্চের সদস্য বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং এনভি আঞ্জারিয়া জোর দিয়ে বলেন যে, সংশোধন প্রক্রিয়া নির্ধারিত সূচি মেনেই এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

   

অভিজ্ঞ অফিসার নিয়ে নির্বাচন কমিশনের উদ্বেগ Supreme Court warning on West Bengal SIR

শুনানিতে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী সিনিয়র অ্যাডভোকেট ডিএস নাইডু নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক (ERO) নিয়োগ নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি যুক্তি দেন যে, ইআরও-দের আধিকারিক-বিচার বিভাগীয় (quasi-judicial) দায়িত্ব পালন করতে হয়, তাই তাদের পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতার প্রয়োজন। কমিশনের পক্ষে অভিযোগ করা হয়, ৩০০০ গ্রুপ-বি অফিসার চাওয়া হলেও মাত্র ৬৪ জন অভিজ্ঞ অফিসার প্রদান করা হয়েছে। বাকি নিয়োগগুলি শুধুমাত্র পে-প্যারিটির ভিত্তিতে হয়েছে। নাইডুর মতে, কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন অফিসাররা (যেমন ইঞ্জিনিয়ার) এই ধরনের বিচারবিভাগীয় সিদ্ধান্তের জন্য উপযুক্ত নন।

নাম বাদ পড়া সংক্রান্ত অসঙ্গতি

ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া সংক্রান্ত বিষয়ে সিনিয়র অ্যাডভোকেট শ্যাম দিভান যুক্তি দেন যে, এই বিশাল প্রক্রিয়ায় মাইক্রো অবজার্ভারদের মাধ্যমে ব্যাপক হারে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া সম্ভব নয়। আদালতে জানানো হয়, খসড়া ভোটার তালিকায় ৭.০৮ কোটি ভোটার রয়েছে। এর মধ্যে ৬.৭৫ কোটি ভোটার ম্যাপ করা হয়েছে, প্রায় ৩২ লক্ষ এখনো ম্যাপ করা বাকি এবং ১.৩৬ কোটি ভোটারকে “যৌক্তিক অসঙ্গতি” (logical discrepancy) বিভাগে রাখা হয়েছে। দিভান আরও উল্লেখ করেন যে, এই অসঙ্গতির অর্ধেকের বেশি মূলত নামের বানানগত পার্থক্যের কারণে হয়েছে।