নয়াদিল্লি: পর্নোগ্রাফি নিয়ে ফের গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল ভারতের সুপ্রিমকোর্ট। (Pornography)শীর্ষ আদালত জানিয়েছে যে, পর্নোগ্রাফি দেখার ওপর দেশব্যাপী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা সম্ভব নয়। একটি পাবলিক ইন্টারেস্ট লিটিগেশন (পিআইএল) খারিজ করে করে আদালত বলেছে, প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় অযাচিত হস্তক্ষেপ করা যাবে না।
এই রায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।মামলায় আবেদনকারী দাবি করেছিলেন যে, পর্নোগ্রাফি সমাজের নৈতিকতা, যৌন স্বাস্থ্য এবং তরুণ প্রজন্মের মানসিকতার ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। তাই পুরো দেশে এর দেখা, উৎপাদন এবং প্রচারের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ এই আবেদন খারিজ করে দিয়ে বলেছে, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকারকে ক্ষুন্ন করে।
আরও দেখুনঃ ২০২৮ র মধ্যে যমুনায় কোনও বর্জ্য নয়! কড়া পদক্ষেপ শাহের
প্রধান বিচারপতি নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানিয়েছে, “প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিরা নিজেদের ব্যক্তিগত জায়গায় কী দেখবেন, তা রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ করা উচিত নয়। আমরা নৈতিক পুলিশের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারি না।” আদালত আরও বলেছে যে, যদি কোনো নির্দিষ্ট ধরনের পর্নোগ্রাফি শিশু, নারী নির্যাতন বা অসম্মতির সঙ্গে যুক্ত থাকে, তাহলে আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা বাস্তবসম্মত নয়।
এই রায়ের পর দেশের বিভিন্ন মহলে মতামতের ঝড় উঠেছে। একদল বলছেন, আদালতের সিদ্ধান্ত সঠিক। তাঁরা মনে করেন, প্রযুক্তির যুগে ইন্টারনেটের মাধ্যমে কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ করা প্রায় অসম্ভব। নিষেধাজ্ঞা দিলেও মানুষ উপায় বের করে দেখবে। তাই শিক্ষা, সচেতনতা এবং দায়িত্বশীল ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া উচিত।অন্যদিকে অনেক সমাজকর্মী ও অভিভাবক এই রায়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন।
আরও দেখুনঃ মোদী সফরে বোধোদয়! ভারত থেকে চুরি করা শিল্পকর্ম ফেরাবে অস্ট্রেলিয়া
তাঁরা বলছেন, অবাধ পর্নোগ্রাফির কারণে তরুণ-তরুণীরা ভুল পথে চলে যাচ্ছে। সম্পর্কের ধারণা বদলে যাচ্ছে, যৌন হিংসা বাড়ছে এবং বাস্তব জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। একজন মনোবিদ বলেন, “আসক্তি তৈরি হয়ে অনেক যুবকের মানসিক স্বাস্থ্য খারাপ হচ্ছে। আদালত হয়তো আইনি দিক দেখেছে, কিন্তু সামাজিক ক্ষতির দিকটাও গুরুত্বপূর্ণ।”সরকারি সূত্র জানিয়েছে, তারা আদালতের রায়কে সম্মান করে।
তবে শিশু পর্নোগ্রাফি এবং অবৈধ কনটেন্টের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ অব্যাহত রাখবে। ইতিমধ্যে কয়েকটি অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।এই মামলাটি আবারও দেখিয়ে দিয়েছে যে, ডিজিটাল যুগে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও সামাজিক দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা কতটা চ্যালেঞ্জিং। ভারতে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বিপুল। লক্ষ লক্ষ তরুণ প্রতিদিন অনলাইনে সময় কাটান। এই বাস্তবতায় পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা কার্যত অসম্ভব।
আরও দেখুনঃ বেতন ও সুযোগের হাতছানি: কেন ইসরো ছাড়ছেন দক্ষ বিজ্ঞানীরা?




