মুম্বই: মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারের মর্মান্তিক প্রয়াণের ঠিক তিন দিনের মাথায় দলের রাশ ধরলেন সুনেত্রা পাওয়ার। শনিবার সর্বসম্মতিক্রমে ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (NCP)-র পরিষদীয় দলের নেত্রী হিসেবে নির্বাচিত হলেন তিনি। আজ বিকেলে মহারাষ্ট্রের প্রথম মহিলা উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তিনি।
শোকাতুর বিধান ভবনে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত
শনিবার দক্ষিণ মুম্বইয়ের বিধান ভবন চত্বরে অজিত পওয়ারের কার্যালয়ে এনসিপি-র বিধায়ক দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বর্ষীয়ান নেতা দিলীপ ওয়ালসে পাতিল সুনেত্রার নাম প্রস্তাব করেন এবং মন্ত্রী ছগন ভুজবল তা সমর্থন করেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সুনেত্রার কনিষ্ঠ পুত্র জয় পাওয়ারও। সভার শুরুতে প্রয়াত অজিত পাওয়ারের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন সুনেত্রা। প্রিয় নেতার মৃত্যুতে এদিন অনেক বিধায়ক ও মন্ত্রীকেই চোখের জল মুছতে দেখা গিয়েছে।
শোক ও স্থায়িত্বের সমীকরণ
গত ২৮ জানুয়ারি বারামতির কাছে এক ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় মহারাষ্ট্রের তৎকালীন উপ-মুখ্যমন্ত্রী তথা অর্থমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের। সেই শূন্যস্থান পূরণ করতে এবং দলের অন্দরে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সুনেত্রা পাওয়ারের ওপরই ভরসা রাখল দল। মহাযুতি (Mahayuti) সরকারে দেবেন্দ্র ফড়নবীশের ডেপুটি হিসেবে এবার দায়িত্ব সামলাবেন তিনি।
নেপথ্য থেকে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে পর্যন্ত সুনেত্রা পওয়ার মূলত পর্দার আড়ালেই থাকতেন। গত সাধারণ নির্বাচনে বারামতি কেন্দ্র থেকে ননদ সুপ্রিয়া সুলের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েছিলেন তিনি। এরপর তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠানো হয়। সংসদের উচ্চকক্ষে যাওয়ার মাধ্যমে সক্রিয় রাজনীতিতে তাঁর অভিষেক হলেও, স্বামীর আকস্মিক মৃত্যু তাঁকে এবার মহারাষ্ট্রের মসনদে বসিয়ে দিল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সুনেত্রাকে উপ-মুখ্যমন্ত্রী করার সিদ্ধান্তটি যেমন আবেগঘন, তেমনই কৌশলগত। অজিত পওয়ারের প্রয়াণে সৃষ্ট রাজনৈতিক শূন্যতা কাটিয়ে বারামতি তথা মহারাষ্ট্রে দলের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখাই এখন তাঁর প্রধান চ্যালেঞ্জ।




















