
মহারাষ্ট্রের (Mumbai) রাজনীতিতে বড়সড় চমক দিলেন মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা (এমএনএস)-র প্রধান রাজ ঠাকরে। আসন্ন পুরসভা নির্বাচনের আগে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করলেন, শিবসেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে গোষ্ঠী বা ইউবিটি) এবং এমএনএস একজোট হয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামবে। এই ঘোষণার পরই মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে এবং পুরনির্বাচনের সমীকরণ যে বড়সড়ভাবে বদলাতে চলেছে, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।
রাজ ঠাকরে বলেন, “মহারাষ্ট্রের স্বার্থে এবং মারাঠি মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য এই জোট অত্যন্ত জরুরি।” তাঁর মতে, রাজ্যের শহর ও পুরসভাগুলিতে উন্নয়ন, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে এই দুই দল একসঙ্গে কাজ করবে। দীর্ঘদিন পর ঠাকরে পরিবারের দুই রাজনৈতিক ধারার এই মিলন রাজনীতিতে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আসন্ন পুরসভা নির্বাচন মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বৃহত্তম পুরনিগম মুম্বাই পুরসভার নির্বাচন নিয়ে সব দলের নজর। শিবসেনার ঐতিহ্যগত শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই পুরসভা দখলের লড়াইয়ে ইউবিটি শিবসেনা–এমএনএস জোট বড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারে শাসক জোটের সামনে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মারাঠি ভোটব্যাঙ্ক একত্রিত হলে এই জোট উল্লেখযোগ্য সুবিধা পেতে পারে।
রাজ ঠাকরের ঘোষণার পর শিবসেনা (ইউবিটি)-র শীর্ষ নেতৃত্বও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। দলের একাধিক নেতা বলেছেন, আদর্শগত মিল এবং রাজ্যের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই এই জোট গড়ে তোলা হয়েছে। তাঁদের দাবি, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিরোধী শক্তিগুলির একত্রিত হওয়া সময়ের দাবি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই জোটের ফলে পুরসভা নির্বাচনে আসন সমঝোতা, প্রার্থী বাছাই এবং প্রচারের কৌশলে বড় পরিবর্তন দেখা যাবে। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে যেখানে এমএনএস-এর প্রভাব রয়েছে, সেখানে শিবসেনা (ইউবিটি) অতিরিক্ত সুবিধা পেতে পারে। আবার শিবসেনার সংগঠনগত শক্তি এমএনএস-কে আরও বিস্তৃত পরিসরে পৌঁছাতে সাহায্য করবে।










