মধ্যপ্রদেশের রাইসেন জেলায় ঐতিহাসিক রাইসেন দুর্গ থেকে অবৈধ হোমমেড কামান দাগার (Raisen Fort)একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গেছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কয়েকজন যুবক দুর্গের প্রাচীরের উপর দাঁড়িয়ে কামানে আগুন লাগাচ্ছেন এবং ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনি তুলে ইরানের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন। দুর্গটি প্রত্নতাত্ত্বিক সমীক্ষা অধিদফতর (এএসআই)-এর সুরক্ষিত স্মৃতিস্তম্ভ, যা এই ঘটনাকে আরও গুরুতর করে তুলেছে।
ভিডিওতে চার-পাঁচজন যুবককে দেখা যায় দুর্গের উঁচু অংশে। একজন দেশলাই দিয়ে কামানে আগুন ধরান, তারপর বিস্ফোরণের শব্দ। সঙ্গে সঙ্গে ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনি ও ইরানের সমর্থনে স্লোগান। কেউ কেউ বলছেন, “ভারতের মুসলিমরা ভয় পাবে না যতদিন বিশ্ব থাকবে।” এই কামান ফায়ারিং শহরের দিকে করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। অনেকে বলছেন, এটি শুধু সমর্থন প্রকাশ নয় এতে জননিরাপত্তা ও ঐতিহাসিক স্থানের ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে।
আরও দেখুনঃ মাত্র ১৯,০০০ টাকায় ১ টনের এসি বাড়িতে নিয়ে আসুন, গ্রীষ্মকালটা ঠাণ্ডা থাকবে
রাইসেনের এই দুর্গ মধ্যযুগীয় ইতিহাসের সাক্ষী। এটি এএসআই-এর অধীনে সুরক্ষিত, যেখানে অস্ত্র ব্যবহার বা অবৈধ বিস্ফোরক নিষিদ্ধ। পুলিশ জানিয়েছে, এটি অবৈধ দেশি কামান (কান্ট্রি-মেড ক্যানন)। এই ধরনের কামান রমজান বা উৎসবে কিছু এলাকায় ব্যবহার হয়, কিন্তু দুর্গের মতো সুরক্ষিত স্থান থেকে ফায়ার করা সম্পূর্ণ অবৈধ। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা বলছেন, বিস্ফোরণের শব্দে অনেকে ভয় পেয়ে গেছেন, মনে হয়েছে কোনো আক্রমণ হচ্ছে।এই ঘটনায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি)-এর সদস্য প্রিয়াঙ্ক কানুনগো কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “এএসআই-সুরক্ষিত দুর্গের পাশ থেকে আবাসিক এলাকায় অবৈধ কামান ফায়ার করে জনজীবনে ভয় ছড়ানো হচ্ছে। এটি ইরান ও রমজানের নামে করা হচ্ছে।” তিনি দাবি করেছেন যে, এনএইচআরসি এ বিষয়ে নোটিশ জারি করবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।



















