হিন্দু যুবককে পিটিয়ে খুন, দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে ব্যাপক বিক্ষো

বাংলাদেশের ময়মনসিংহে হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে মারার ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার উত্তাল হয়ে উঠল ভারতের রাজধানী। দিল্লির চাণক্যপুরীতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে…

Protests Outside Bangladesh High Commission In Delhi

বাংলাদেশের ময়মনসিংহে হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে মারার ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার উত্তাল হয়ে উঠল ভারতের রাজধানী। দিল্লির চাণক্যপুরীতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে বিশাল বিক্ষোভ প্রদর্শন করল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি), বজরং দল এবং একাধিক হিন্দু সংগঠন। বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয় এবং মোতায়েন করা হয় বিশাল আধাসামরিক বাহিনী।

Advertisements

বিক্ষোভের মূল কারণ: সম্প্রতি বাংলাদেশের ময়মনসিংহে ‘ধর্ম অবমাননার’ ভিত্তিহীন অভিযোগে পোশাক শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে (২৫) জনসমক্ষে পিটিয়ে হত্যা করার পর গাছে ঝুলিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এই নারকীয় ঘটনার ছবি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই ভারতে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার বিক্ষোভকারীরা দাবি তোলেন, অবিলম্বে এই ঘটনার বিচার করতে হবে এবং বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে।

   

বিক্ষোভে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) সহ একাধিক হিন্দু সংগঠনের কর্মী ও সমর্থকরা অংশ নেন। তাঁদের অভিযোগ, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর ধারাবাহিক হামলার ঘটনা বাড়লেও অন্তর্বর্তী সরকারের তরফে কার্যকর পদক্ষেপের অভাব স্পষ্ট। ময়মনসিংহে নিহত যুবক দীপু চন্দ্র দাসের হত্যাকাণ্ডকে তাঁরা সেই ব্যর্থতার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন।

প্রতিবাদকারীদের দাবি, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে দীপু চন্দ্র দাসকে প্রকাশ্যে মবের হাতে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় কেবল বাংলাদেশের অভ্যন্তরেই নয়, আন্তর্জাতিক স্তরেও সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে তাঁদের বক্তব্য।

বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লি পুলিশ কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে, বিক্ষোভ চলাকালীন কোনও অনভিপ্রেত পরিস্থিতি তৈরি হয়নি এবং কেউই বাংলাদেশ হাইকমিশনের অভ্যন্তরে প্রবেশের চেষ্টা করেননি।

উল্লেখ্য, ময়মনসিংহের ঘটনার পর থেকেই ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক অস্বস্তি বাড়ছে। নয়াদিল্লির তরফে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে এই ঘটনাকে ঘিরে প্রতিবাদ ও পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ঢাকার অবস্থানও নজরে এসেছে কূটনৈতিক মহলের।

পর্যবেক্ষকদের মতে, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং তার আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া আগামী দিনে দুই দেশের সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।

 

Advertisements