
লাদাখের কার্গিলে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য দেখা গেল। হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় (Khamenei protest)নেমে ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইয়ের সমর্থনে বিক্ষোভ করলেন। এই সময়ে ইরানে চলছে ব্যাপক অ্যান্টি-রেজিম বিক্ষোভ, যেখানে লক্ষ লক্ষ মানুষ খামেনেইয়ের শাসনের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে “ডেথ টু খামেনেই”, “শাহ জিন্দাবাদ” বলে স্লোগান দিচ্ছেন। কার্গিলের এই বিক্ষোভে ভারতীয় ও ইরানি পতাকা পাশাপাশি উড়ল, আর রাস্তায় রাখা হল ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর প্রতীকী মৃতদেহের কফিন।
যা ছিল আমেরিকা ও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক।বিক্ষোভকারীরা বলছেন, এটা ইরানের ইসলামিক রিপাবলিকের প্রতি সংহতি প্রকাশ। ইরানে যখন অর্থনৈতিক সংকট, ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট আর নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে শত শত মানুষ মারা যাচ্ছেন, তখন কার্গিলের এই সমর্থন দেখিয়ে দিল যে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ইরানের শাসনের প্রতি সমর্থকরা এখনও সক্রিয়।
আগামীকাল শীর্ষ আদালতে ভাগ্য নির্ধারণ মমতার
ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, জনতা পতাকা নেড়ে স্লোগান দিচ্ছে, আর কফিনের সামনে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুকে “শত্রু” বলে অভিহিত করছে। এই প্রতীকী কফিন রাখা হয়েছে ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইজরায়েলের “হস্তক্ষেপের” প্রতিবাদে।ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে ডিসেম্বরের শেষে অর্থনৈতিক অসন্তোষ থেকে, কিন্তু এখন তা পুরোপুরি শাসনবিরোধী। লোকেরা খামেনেইয়ের পদত্যাগ চাইছে, অনেকে নির্বাসিত প্রিন্স রেজা পাহলভির প্রত্যাবর্তনের দাবি তুলছে।
খামেনেই প্রতিবাদীদের “ভ্যান্ডাল” ও “বিদেশি এজেন্ট” বলে অভিহিত করেছেন, বিশেষ করে ট্রাম্পকে দোষারোপ করে বলেছেন যে প্রতিবাদীরা ট্রাম্পকে খুশি করতে রাস্তা নষ্ট করছে। ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের জনগণকে সাহায্য করতে প্রস্তুত, এমনকি হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। নেতানিয়াহুও প্রতিবাদীদের সমর্থন করেছেন। এই পরিস্থিতিতে কার্গিলের বিক্ষোভ ইরানি রেজিমের পক্ষে একটা বিরল সমর্থনের উদাহরণ।
কার্গিলের এই এলাকায় শিয়া সম্প্রদায়ের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে, যা ইরানের শিয়া-নেতৃত্বাধীন শাসনের সঙ্গে সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় যোগসূত্র তৈরি করে। বিক্ষোভকারীরা বলছেন, এটা শুধু খামেনেইয়ের সমর্থন নয়, বরং ইরানের সার্বভৌমত্ব রক্ষার দাবি। তবে ভারতে এই ধরনের বিক্ষোভ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
কেউ কেউ বলছেন, এটা স্থানীয় সম্প্রদায়ের অধিকার, আবার অনেকে প্রশ্ন তুলছেন ইরানে যখন লোকেরা রক্ত ঝরাচ্ছে শাসনের বিরুদ্ধে, তখন এখানে কেন খামেনেইয়ের পক্ষে? সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, জনতা উচ্চস্বরে স্লোগান দিচ্ছে, পতাকা উড়ছে, আর প্রতীকী কফিনের সামনে দাঁড়িয়ে ফটো তুলছে।










