
নয়াদিল্লি: জল্পনাই সত্যি হল। এবার সংসদের উচ্চকক্ষেও কার্যত তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে তৃণমূলের সংসদীয় দল। সুখেন্দুশেখর রায় এবং সুস্মিতা দেবের পর এবার রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন উত্তরবঙ্গের চা বলয়ের প্রভাবশালী আদিবাসী নেতা প্রকাশচিক বরাইক। বৃহস্পতিবারই তিনি নিজের পদত্যাগপত্র রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন। আর এই একের পর এক উইকেটের পতনে সংসদের উচ্চকক্ষে তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা এক ধাক্কায় ১৩ থেকে কমে দাঁড়াল মাত্র ১০-এ! (Prakashchik Baraik Resigns Rajya Sabha)
শুভেন্দুর ডানা ছাঁটাইয়ের পর ‘দাদা’র পথেই প্রকাশচিক
কেবল সাংসদ পদ ত্যাগই নয়, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন প্রকাশচিক বরাইক। পদত্যাগের পর নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো রাখঢাক না রেখেই তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “আগামী দিনে রাজ্যের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যা নির্দেশ দেবেন, সেইমতোই কাজ করব।” সরাসরি কি বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন? আলিপুরদুয়ারের এই আদিবাসী নেতার ইঙ্গিতপূর্ণ জবাব, “আগামী দিনে কী হবে, তা সময় বলবে।” রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রকাশচিকের এই অবস্থান পদ্মশিবিরে তাঁর যোগদানের জল্পনাকে ১০০ শতাংশ সিলমোহর দিয়ে দিল।
লোকসভা-রাজ্যসভায় তৃণমূলের ত্রাহি ত্রাহি রব
রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে যে বেনজির ভাঙন শুরু হয়েছে, তা এখন সুনামির আকার ধারণ করেছে। বিধানসভায় ইতিমধ্যেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৬৪ জন বিধায়ক মমতা-অভিষেকের থেকে দূরত্ব তৈরি করে আলাদা পরিষদীয় দল গড়েছেন। অন্যদিকে, লোকসভাতেও কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে প্রায় ২০ জন তৃণমূল সাংসদ একজোট হয়ে এনডিএ-তে (NDA) শামিল হওয়ার চিঠি দিয়েছেন।
রাজ্যসভায় ‘কৌশলী’ ভাঙনের ব্লু-প্রিন্ট
দলত্যাগের আইনি জটিলতা এড়াতে রাজ্যসভায় অবশ্য লোকসভা বা বিধানসভার মতো একযোগে ভাঙন ধরানো হচ্ছে না। সংসদের উচ্চকক্ষে একসঙ্গে দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ ভাঙা মুশকিল বলেই কৌশল বদলে একে একে ইস্তফার পথ বেছে নিচ্ছেন বিদ্রোহীরা। লক্ষ্মীবারে প্রকাশচিকের পদত্যাগ সেই মেগা পরিকল্পনারই অংশ।
সূত্রের খবর, চলতি সপ্তাহেই আরও এক এবং আগামী সপ্তাহের মধ্যে আরও দুই-তিন জন রাজ্যসভার সাংসদ পদত্যাগ করতে পারেন। চলতি মাসের মধ্যে এই সংখ্যাটা পাঁচ-ছয়ে ঠেকতে পারে। আর বর্তমান বিধানসভার পাটিগণিত যা বলছে, তাতে এই ফাঁকা আসনগুলিতে উপনির্বাচন হলে সবকটিতেই জয় নিশ্চিত করবে বিজেপি। ফলে দিল্লির বুকেও এখন অস্তিত্ব সংকটে জোড়াফুল শিবির।

