মোদীর বঙ্গ সফর নিয়ে বিস্ফোরক তৃণমূল

কলকাতা: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পশ্চিমবঙ্গ সফর নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে (TMC reaction to Modi West Bengal visit)এবার বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন দলের মুখপাত্র তন্ময় ঘোষ। নদীয়ার…

tmc-explosive-reaction-modi-west-bengal-visit-taherpur

কলকাতা: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পশ্চিমবঙ্গ সফর নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে (TMC reaction to Modi West Bengal visit)এবার বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন দলের মুখপাত্র তন্ময় ঘোষ। নদীয়ার তাহেরপুরে শনিবারের জনসভা যদিও ঘন কুয়াশার কারণে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে, তবু তার আগেই তৃণমূল নেতা স্পষ্ট করে দিলেন—মোদীকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্বাগত জানানো হবে, কিন্তু রাজনৈতিকভাবে বিজেপির কোনও লাভ হবে না।

Advertisements

তন্ময় বলেছেন, “নরেন্দ্র মোদী শুধু বিজেপির প্রধানমন্ত্রী নন, তিনি গোটা দেশের প্রধানমন্ত্রী। বাংলায় তাঁর যে কোনও সময় আগমনকে আমরা স্বাগত জানাই। কিন্তু নির্বাচনের হিসেবে বিজেপির কিছু পাওয়ার নেই। ২০২১-এ দেখেছি, নরেন্দ্র মোদী আর অমিত শাহ বাংলায় বারবার এসেছিলেন। কিন্তু কিছুই হয়নি। কারণ বাংলার মানুষ তৃণমূল কংগ্রেসের ওপর ভরসা রাখেন। এবারও কোনও পরিবর্তন হবে না।

   

ঢাকার উস্কানির মধ্যেই ৩২৪০ কিমি জুড়ে নোটাম! বঙ্গোপসাগরে কৌশলগত বার্তা ভারতের

বাংলার মাটি বিজেপির বিভাজনের রাজনীতির জন্য উর্বর নয়।”এই মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে ঝড় তুলেছে। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে মতুয়া অধ্যুষিত নদীয়ায় মোদীর সভা ছিল বিজেপির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনেক মতুয়া ভোটারের নাম কাটা যাওয়ায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে।

বিজেপি আশা করছিল, প্রধানমন্ত্রী সশরীরে এসে সেই উদ্বেগ দূর করবেন এবং মতুয়া ভোটব্যাঙ্ককে আরও শক্ত করবেন। কিন্তু আবহাওয়ার কারণে সভা ভার্চুয়াল হলে সেই আবেগের পূর্ণ প্রকাশ ঘটবে না—এটা বিজেপি নেতারাও মেনে নিচ্ছেন। ঠিক এই সময়ে তৃণমূলের এই আত্মবিশ্বাসী বার্তা বিজেপির পরিকল্পনায় জল ঢেলে দিয়েছে।

তন্ময় ঘোষের কথায় স্পষ্ট, তৃণমূল মোদীর সফরকে প্রোটোকলের মধ্যে রেখে স্বাগত জানালেও রাজনৈতিকভাবে একেবারে নির্ভয়। তিনি ২০২১-এর নির্বাচনের উদাহরণ টেনে বলেছেন, মোদী-শাহর ঝড়ো প্রচার সত্ত্বেও বাংলায় বিজেপি ৭৭ আসনে থেমে গিয়েছিল, আর তৃণমূল ২১৩ আসন নিয়ে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে।

এবারও একই ছবি দেখা যাবে—এমনটাই দাবি তৃণমূলের। তাঁর কথায়, “বাংলার মানুষ বিজেপির বিভাজনের রাজনীতি পছন্দ করেন না। ধর্ম-জাতি নিয়ে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা এখানে বারবার ব্যর্থ হয়েছে।” এই বার্তা শুধু তাহেরপুরের সভা নয়, আগামী দিনের সমস্ত কেন্দ্রীয় নেতাদের বঙ্গ সফরের জন্যই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে।

Advertisements