SIR শুনানির জটিলতা কাটাতে বিশাল সিদ্ধান্ত সুপ্রিমকোর্টের

কলকাতা: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (Supreme Court) নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা কাটাতে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশের পর এবার শুধু ৯৪ লক্ষ ...

By Sudipta Biswas

Published:

Updated:

Follow Us
dy-chandrachud-bail-remarks-sedition-controversy

কলকাতা: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (Supreme Court) নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা কাটাতে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশের পর এবার শুধু ৯৪ লক্ষ নয়, পুরো ১ কোটি ৩৬ লক্ষ ভোটারকেই SIR শুনানিতে ডাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা নিয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং কোনও যোগ্য ভোটার যেন বাদ না পড়েন এই লক্ষ্যেই চলছে SIR প্রক্রিয়া। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া ঘিরেই তৈরি হয়েছিল তীব্র বিতর্ক।

   

কৃষক থেকে বিজ্ঞানী, কর্তব্য পথে কুচকাওয়াজে আমন্ত্রিত ১০,০০০ বিশেষ অতিথি

নির্বাচন কমিশনের আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নামের বানান ভুল, বয়সের সামান্য অমিল বা ঠিকানার মতো ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ থাকলে ব্লক লেভেল অফিসাররাই (BLO) তা সংশোধন করবেন। সেই ক্ষেত্রে ভোটারদের আলাদা করে শুনানিতে ডাকার প্রয়োজন নেই বলেই জানানো হয়েছিল। ফলে ১ কোটি ৩৬ লক্ষ লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির মধ্যে কেবল ৯৪ লক্ষ ভোটারকে শুনানিতে ডাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে রাজ্যের শাসক দল আদালতের দ্বারস্থ হয়। তাদের দাবি ছিল, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির পুরো তালিকা প্রকাশ না করলে প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ থাকবে না এবং বহু ভোটারের অধিকার ক্ষুণ্ণ হতে পারে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয় লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির সম্পূর্ণ তালিকাই প্রকাশ করতে হবে।

শীর্ষ আদালতের এই নির্দেশের পরই নির্বাচন কমিশন তাদের অবস্থান বদলাতে বাধ্য হয়। কমিশন জানিয়েছে, এবার আর কোনও ভাগাভাগি নয় সব মিলিয়ে ১ কোটি ৩৬ লক্ষ ভোটারকেই SIR শুনানিতে ডাকা হবে। অর্থাৎ, যাঁদের নাম ভোটার তালিকায় কোনও না কোনও কারণে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, তাঁদের প্রত্যেককেই নিজেদের বক্তব্য ও নথি পেশ করার সুযোগ দেওয়া হবে।

সুপ্রিম কোর্ট আরও নির্দেশ দিয়েছে, এই প্রক্রিয়াকে সর্বসাধারণের কাছে স্বচ্ছ করতে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকা গ্রাম পঞ্চায়েত, ব্লক অফিস এবং ওয়ার্ড অফিসে প্রকাশ্যে টাঙাতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি ব্লক অফিসে আলাদা কাউন্টার খুলতে হবে, যেখানে সাধারণ মানুষ সরাসরি নথি জমা দিতে পারবেন এবং আপত্তি জানাতে পারবেন।

এই মামলায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ও তাৎপর্যপূর্ণ নির্দেশ এসেছে নথি সংক্রান্ত বিষয়ে। আদালত জানিয়ে দিয়েছে, মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকে SIR-এর বৈধ নথি হিসেবে মান্যতা দিতে হবে। এতদিন এই অ্যাডমিট কার্ড বাতিল থাকায় বহু তরুণ ভোটার সমস্যায় পড়েছিলেন। এই বিষয়টি আদালতে তুলে ধরেন তৃণমূল কংগ্রেসের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আদালত তাঁর যুক্তি গ্রহণ করে তরুণ ভোটারদের স্বস্তি দিল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে যেমন ভোটার তালিকা নিয়ে আস্থার সংকট কমবে, অন্যদিকে তেমনই বিরোধী ও শাসক সব পক্ষই এবার সমান সুযোগ পাবে নিজেদের বক্তব্য রাখার। সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই সিদ্ধান্তে স্বস্তির বাতাবরণ তৈরি হয়েছে।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google