
বহরমপুর: বাবরি আবহে বঙ্গের রাজনৈতিক মহল উত্তপ্ত (I Love Babri T-shirt Murshidabad)। এর মাঝেই মুর্শিদাবাদ বেলডাঙা জুড়ে দেদার বিকোচ্ছে ‘আই লাভ বাবরি’ লেখা টি শার্ট। কিছু টি শার্টে আবার লেখা রয়েছে হুমায়ুন কবিরের নামও। বেলডাঙ্গার মির্জাপুর বা চেতনি এলাকায় গেলে চোখে পড়বে এই দৃশ্য। প্রস্তাবিত মসজিদের চারপাশে খাবারের দোকান, ফটো স্টলের পাশাপাশি টি-শার্টের দোকানগুলোতে লম্বা লাইন।
১৫০ থেকে ২০০ টাকায় বিকোচ্ছে এই টি-শার্টগুলো। সমর্থকরা পরে নিচ্ছেন গর্বের সঙ্গে। শুধু টি-শার্ট নয়, হুমায়ুন কবিরের ছবি দেওয়া পোস্টার, ক্যাপ, এমনকি মসজিদের মডেলও বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, এত ভিড় কখনো দেখেননি। একদিকে ধর্মীয় আবেগ, অন্যদিকে ব্যবসার সুযোগ দুটোই মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে।
যৌথ সামরিক মহড়া পরিচালনায় ভারত ও মালয়েশিয়া, জোরদার হবে আস্থা ও অংশীদারিত্ব
এই ঘটনা মুহূর্তে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এলাকায়। গত ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদের শিলান্যাস অনুষ্ঠান করেন সাসপেন্ড হওয়া তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবির। মসজিদ শিলান্যাসের ঠিক আগেই তাকে দল থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। কিন্তু ঠিক পরের দিনই তার এই অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা দেয় রাজ্যের প্রশাসন। এই ইস্যুতেই সরব হয়েছিলেন বিজেপি নেতৃত্ব এবং যার ফলে ফের ছড়িয়েছিল রাজনৈতিক উত্তেজনা।
তবে শুধু মসজিদেই যে ঘটনা সীমাবদ্ধ নেই তা টি শার্টের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে মুর্শিদাবাদ জুড়ে তা দেখে ফের প্রমাদ গুনেছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। বাংলাদেশের ঘটনা এবং চলতি সন্ত্রাসের কথা মাথায় রেখে তারা বলেছেন এই ঘটনা শুধু বাংলাদেশ নয় ছড়িয়ে পড়বে পশ্চিমবঙ্গ জুড়েও। যেভাবে প্রকাশ্যে টি শার্টের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িকতার বীজ বপন করা হচ্ছে তা ভবিষ্যতের জন্য যথেষ্ট আশংকার।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের বক্তব্য তৃণমূল কংগ্রেস হুমায়ুনকে সাসপেন্ড করেছে এই ইস্যুতেই। দলের নেতারা বলছেন, এটা সাম্প্রদায়িকতা ছড়ানোর চেষ্টা। বিজেপি অবশ্য পাল্টা আক্রমণ করছে। তাদের দাবি, রাজ্য সরকার নীরব দর্শকের ভূমিকায়। মুর্শিদাবাদে আগেও ওয়াকফ বিল নিয়ে দাঙ্গা হয়েছে। সেই স্মৃতি এখনও তাজা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে চ্যালেঞ্জ করছে। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের খবরের মাঝে এখানে এমন উত্তেজনা ভবিষ্যতে বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।










