তৃণমূলের নির্দেশেই নতুন দল! হুমায়ুন নিয়ে সুর চড়াল বিজেপি

humayun-kabir-new-party-tmc-bjp-allegation

কলকাতা: হুমায়ুন কবিরের নতুন রাজনৈতিক দল ঘোষণাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র তরজা শুরু হয়েছে(Humayun Kabir new party)। একদিকে যেখানে হুমায়ুন কবির নিজেকে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে আলাদা করে নতুন রাজনৈতিক পথচলার কথা বলছেন, অন্যদিকে বিজেপি এই ঘটনাকে সরাসরি “পরিকল্পিত নাটক” বলে দাবি করছে। বিজেপির বক্তব্য, হুমায়ুন কবির আদৌ কোনও বিদ্রোহী নন, বরং তৃণমূল কংগ্রেসের নির্দেশ এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্মতিতেই এই নতুন দল গঠনের ঘটনা ঘটেছে।

বিজেপি নেতাদের যুক্তি, হুমায়ুন কবির তৃণমূলের টিকিটে নির্বাচনে লড়ে বিধায়ক হয়েছেন। দল ছাড়ার ঘোষণা প্রকাশ্যে করার পরেও এখনও পর্যন্ত তাঁর বিধায়ক পদ বাতিল করার জন্য তৃণমূল কংগ্রেস কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। বিজেপির মতে, সাধারণত কোনও বিধায়ক দল ছেড়ে দিলে শাসকদল দ্রুত আইনি ও সাংগঠনিক প্রক্রিয়া শুরু করে। কিন্তু এই ক্ষেত্রে সেই রকম কোনও তৎপরতা চোখে পড়ছে না, যা থেকেই প্রশ্ন উঠছে হুমায়ুন কবিরের ‘বিদ্রোহ’ কতটা বাস্তব।

   

সামান্থা ভিড়ের ঘটনায় পুলিশ ব্যর্থ, বিরোধী দলের আক্রমণ কংগ্রেসের উপর

বিজেপির আরও অভিযোগ, হুমায়ুন কবিরের রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং সভাগুলিকে রাজ্য সরকার সম্পূর্ণ নিরাপত্তা দিচ্ছে। তাদের দাবি, বিজেপি যখন কোনও বড় সভা বা কর্মসূচির আয়োজন করতে চায়, তখন আদালতের অনুমতি, পুলিশের বিধিনিষেধ এবং প্রশাসনিক জটিলতার মুখে পড়তে হয়। অথচ হুমায়ুন কবিরের ক্ষেত্রে প্রশাসন নাকি নিজেই উদ্যোগ নিয়ে সভা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করছে। বিজেপির প্রশ্ন, যদি তিনি সত্যিই শাসকদলের বিরোধী হন, তাহলে কেন তাঁকে এমন সুবিধা দেওয়া হচ্ছে?

এই বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে হুমায়ুন কবিরের পুরনো বিতর্কিত ‘৭০–৩০’ মন্তব্য। বিজেপির দাবি, সম্প্রতি হুমায়ুন কবির নিজেই স্বীকার করেছেন যে ওই মন্তব্য তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই করেছিলেন। বিজেপির অভিযোগ অনুযায়ী, এত বড় স্বীকারোক্তির পরেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনও নোটিস, এফআইআর বা আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বিজেপি নেতাদের বক্তব্য, অন্য কোনও রাজনৈতিক নেতা হলে এতদিনে তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কার্যত শেষ হয়ে যেত।

এই সমস্ত বিষয় সামনে রেখেই বিজেপি দাবি করছে, হুমায়ুন কবিরের নতুন দল গঠন কোনও স্বতঃস্ফূর্ত সিদ্ধান্ত নয়, বরং তৃণমূল কংগ্রেসের বৃহত্তর রাজনৈতিক কৌশলের অংশ। বিজেপির ভাষায়, “এটা বিদ্রোহ নয়, এটা পরিকল্পিত খেলা।” তাদের মতে, বিরোধী ভোট ভাঙা, সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে বার্তা দেওয়া এবং রাজনৈতিক বিভ্রান্তি তৈরির জন্য এই নতুন দলের ব্যবহার হতে পারে।

অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস এখনও পর্যন্ত বিজেপির এই অভিযোগগুলির কোনও আনুষ্ঠানিক জবাব দেয়নি। হুমায়ুন কবির নিজেও দাবি করে আসছেন যে তিনি সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবেই নতুন দল গঠন করেছেন এবং এর সঙ্গে তৃণমূলের কোনও যোগ নেই। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নীরবতাই বিতর্ককে আরও ঘনীভূত করছে।

সব মিলিয়ে, হুমায়ুন কবিরের নতুন দল গঠনকে কেন্দ্র করে যে প্রশ্ন ও পাল্টা প্রশ্ন উঠছে, তা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এটি সত্যিই বিদ্রোহ, না কি শাসকদলের অন্দরমহলের পরিকল্পিত চাল এই প্রশ্নের উত্তর আগামী দিনে রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহেই স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন