
গুয়াহাটি: অসম ও দেশের রাজনীতিতে ফের উত্তাপ বাড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা (Himanta Biswa Sarma)। বাংলাদেশ প্রসঙ্গ থেকে শুরু করে কংগ্রেসের সভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে ওঠা স্লোগান দু’টি বিষয়েই কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া দিলেন তিনি। তাঁর মন্তব্য ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, গত এক বছর ধরে বাংলাদেশে বারবার আলোচনা হচ্ছে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে আলাদা করে বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে। তাঁর দাবি, এই ধরনের বক্তব্য ও মানসিকতা ভারতের সার্বভৌমত্বের পক্ষে বিপজ্জনক। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “বাংলাদেশের মানুষের একাংশের মধ্যে ভারতের বিরুদ্ধে খারাপ মানসিকতা কাজ করছে। এই পরিস্থিতিতে তাদের প্রতি অতিরিক্ত সহানুভূতি দেখানোর কোনও প্রয়োজন নেই। যদি তারা এভাবে ভারতের সঙ্গে আচরণ করে, তবে তাদের বুঝিয়ে দিতে হবে—ভারত নীরব থাকবে না।”
Jio-এর আকর্ষণীয় ভ্যালু প্ল্যান! Netflix একদম ফ্রি, ৮৪ দিনের ভ্যালিডিটি
হিমন্তর মন্তব্যে স্পষ্ট, তিনি বিষয়টিকে শুধুমাত্র কূটনৈতিক স্তরে নয়, জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকেও দেখছেন। তাঁর মতে, উত্তর-পূর্ব ভারতের মতো সংবেদনশীল অঞ্চলের অখণ্ডতা নিয়ে যদি লাগাতার উসকানি দেওয়া হয়, তবে তা কখনওই হালকাভাবে নেওয়া যায় না। মুখ্যমন্ত্রী ইঙ্গিত দেন, প্রয়োজনে কঠোর অবস্থান নিতেও পিছপা হবে না ভারত।
অন্যদিকে, কংগ্রেসের একটি সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে স্লোগান তোলার ঘটনাতেও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এই ধরনের স্লোগান অত্যন্ত অশালীন এবং অসভ্য আচরণের পরিচয় দেয়। দেশের প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে এমন ভাষা ব্যবহার করা গোটা দেশের অপমান।” হিমন্ত বিশ্ব শর্মার দাবি, এই ঘটনার জন্য কংগ্রেস নেতৃত্বকে দায় নিতে হবে।
বিশেষ করে রাহুল গান্ধী এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর নাম করে ক্ষমা চাওয়ার দাবি তুলেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, “রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর উচিত জাতির কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া। তাঁরা যদি নিজেদের দলকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারেন, তাহলে দেশের গণতান্ত্রিক পরিসরে তার প্রভাব পড়বেই।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হিমন্ত বিশ্ব শর্মার এই বক্তব্য একদিকে যেমন বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের প্রশ্নে কড়া বার্তা দিচ্ছে, তেমনই কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিজেপির আক্রমণ আরও ধারালো করছে। বিশেষ করে লোকসভা ভোটের আবহে এই ধরনের মন্তব্য রাজনৈতিক মেরুকরণকে আরও তীব্র করতে পারে।
কংগ্রেস শিবির অবশ্য এখনও পর্যন্ত এই মন্তব্য নিয়ে সরাসরি কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে অতীতে তারা একাধিকবার দাবি করেছে, রাজনৈতিক প্রতিবাদ মানেই ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়। অন্যদিকে, বিজেপি শিবির হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বক্তব্যকে সমর্থন করে বলেছে, দেশের সার্বভৌমত্ব এবং প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদা রক্ষায় এই ধরনের কড়া অবস্থান জরুরি।
সব মিলিয়ে, বাংলাদেশ প্রসঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা, উত্তর-পূর্ব ভারতের অখণ্ডতা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক শালীনতা এই তিনটি বিষয়কে এক সুতোয় বেঁধে নতুন রাজনৈতিক বার্তা দিলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী। আগামী দিনে এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক যে আরও বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য।










