প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় বিশাল প্রতারণা! কড়া পদক্ষেপ ইডির

pm-awas-yojana-housing-fraud-ed-action

দিল্লির পটিয়ালা হাউস কোর্টে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার (PM Awas Yojana) আওতায় গুরুগ্রামে সাশ্রয়ী আবাসন প্রকল্পে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করার এক বড় মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। আজ ৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ইডি-র হেডকোয়ার্টার্স অফিস পিএমএলএ (প্রিভেনশন অব মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট) ২০০২-এর অধীনে স্পেশাল কোর্টে প্রসিকিউশন কমপ্লেইন্ট (পিসি) দায়ের করেছে।

অভিযুক্তরা হলেন ওশান সেভেন বিল্ডটেক প্রাইভেট লিমিটেডের প্রমোটার স্বরাজ সিং যাদব এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থা ও ব্যক্তিরা। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, নিরীহ হোমবায়ার এবং বিনিয়োগকারীদের প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা এবং সেই কালো টাকাকে সাদা করার চেষ্টা। এই মামলা সাধারণ মানুষের স্বপ্নের ঘর কেনার আশায় বড় ধাক্কা দিয়েছে এবং রিয়েল এস্টেট সেক্টরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ইডির সক্রিয়তাকে তুলে ধরছে।

   

ভারত নয় পাকিস্তানকেই শেষ করার ছক ফাঁস লস্করের

ইডির তদন্তে উঠে এসেছে যে, স্বরাজ সিং যাদবের সংস্থা ওশান সেভেন বিল্ডটেক গুরুগ্রামে পিএমএওয়াই-এর আওতায় একাধিক সাশ্রয়ী আবাসন প্রকল্প চালু করেছিল। এই প্রকল্পগুলিতে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ বুকিং মানি দিয়ে ফ্ল্যাট বুক করেছিলেন। কিন্তু প্রকল্পগুলি সম্পূর্ণ না করে বা ফ্ল্যাট না দিয়ে টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। অনেক ক্রেতা বছরের পর বছর অপেক্ষা করেও ঘর পাননি, আবার অনেকে ব্যাঙ্ক লোনের চাপে পড়েছেন।

ইডির সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রতারণার মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সেই টাকাকে বিভিন্ন শেল কোম্পানি, রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগ এবং বিলাসবহুল সম্পত্তিতে লাগানো হয়েছে। এটি পিএমএলএ-র আওতায় মানি লন্ডারিংয়ের অপরাধ।প্রসিকিউশন কমপ্লেইন্টে স্বরাজ সিং যাদব ছাড়াও সংস্থার অন্যান্য ডিরেক্টর, সহযোগী এবং সম্পর্কিত সংস্থাগুলির নাম রয়েছে।

ইডি আদালতের কাছে অভিযুক্তদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আর্জিও জানাতে পারে। এর আগে ইডি একাধিক তল্লাশি অভিযান চালিয়ে বড় পরিমাণ নথি, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য এবং ডিজিটাল প্রমাণ বাজেয়াপ্ত করেছে। সূত্রের খবর, এই মামলায় রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগসূত্রের ইঙ্গিতও মিলেছে, যদিও ইডি এখনও সেগুলি প্রকাশ্যে আনেনি।এই ঘটনা গুরুগ্রামের রিয়েল এস্টেট সেক্টরে বড় আলোড়ন তুলেছে।

পিএমএওয়াই-এর মতো কেন্দ্রীয় সরকারের ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্পে এমন প্রতারণা সাধারণ মানুষের আস্থায় ধাক্কা দিয়েছে। অনেক ক্রেতা প্রতিবাদ করেছেন, মামলা করেছেন, কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ন্যায় পাননি। এখন ইডির এই পদক্ষেপ তাদের জন্য আশার আলো। ভুক্তভোগীদের একজন বলেন, “আমরা সারাজীবনের সঞ্চয় দিয়ে ফ্ল্যাট বুক করেছিলাম। বছরের পর বছর অপেক্ষা করেও কিছু পাইনি। এখন অন্তত অপরাধীদের শাস্তি হোক।”

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন