ঝাড়খন্ড: দেওঘরের বিখ্যাত বৈদ্যনাথ মন্দির। আর এই মন্দিরকে ঘিরেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। (Baidyanath temple)সমস্ত মন্দিরের বাইরেই দেখা যায় দর্শনার্থীদের জন্য দানপাত্র এবং নির্দিষ্ট সময় পরে সেই দানপাত্র খুলে গোনা হয় অর্থের পরিমান। ঠিক তেমনটাই করা হচ্ছিল দেওঘরের এই বিখ্যাত মন্দিরে। টাকা গুনতে গিয়েই দেখা গেল ভারতীয় নেপালি টাকার পাশাপাশি সেখানে রয়েছে প্রচুর পাকিস্তানি মুদ্রা।
ঝাড়খণ্ডের পবিত্র দেওঘরে অবস্থিত বিখ্যাত বাবা বৈদ্যনাথ ধাম, যা দেশের বারোটি জ্যোতির্লিঙ্গের একটি। লক্ষ লক্ষ ভক্ত প্রতি বছর এখানে শিবের দর্শনে আসেন, মনের ইচ্ছা পূরণের আশায় দানপাত্রে টাকা-পয়সা ফেলেন। কিন্তু এবার সেই দানপাত্র খুলতেই বেরিয়ে এলো এক অপ্রত্যাশিত চমক। ২৫ মার্চ তারিখে মন্দির প্রাঙ্গণের ১৮টি দানপাত্র খুলে টাকা গোনার সময় এই ঘটনা ঘটে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩২ লক্ষ টাকারও বেশি, ৯,০০০-এর বেশি নেপালি রুপি, ১১টি মার্কিন ডলার, ২০ ইউরো এবং ১০০ পাকিস্তানি মুদ্রা বেরিয়েছে। দেওঘরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নামান প্রিয়েশ লাকরা স্পষ্টভাবে বলেছেন, “এটি প্রথমবার যে বাবা বৈদ্যনাথ মন্দিরের দানপাত্রে পাকিস্তানি মুদ্রা পাওয়া গেল।” সাধারণত মন্দিরের দানপাত্রে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মুদ্রা আসে।
আরও দেখুনঃ১৫ বছরেই সিনিয়র দলে বৈভব, সচিনের রেকর্ড ভাঙার সামনে সুযোগ
ভক্তরা বিদেশ থেকে এলে ডলার বা ইউরো দান করেন। নেপালি ভক্তদের কাছ থেকে নেপালি রুপি আসাটাও নতুন নয়। কিন্তু পাকিস্তানি মুদ্রা এখানে আসাটা সত্যিই অস্বাভাবিক এবং উদ্বেগজনক। মন্দির কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে এখন চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তা এজেন্সিগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। দেওঘরের বাবা বৈদ্যনাথ মন্দির শুধু ধর্মীয় স্থান নয়, এটি ভক্তদের বিশ্বাসের প্রতীক। প্রতি বছর শ্রাবণ মাসে কাঁবড়িয়া যাত্রায় লক্ষ লক্ষ শিবভক্ত এখানে আসেন। মন্দির চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর। তবু কীভাবে পাকিস্তানি মুদ্রা দানপাত্রে ঢুকল, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন দেশের নিরাপত্তার উপর। অনেকেই বলেছেন ভারতে পাকিস্তানি মুদ্রা পাওয়া গিয়েছে মানে নিশ্চই কেউ পাকিস্তান থেকে এখানে এসেছে। শুধু তাই নয় একাধিক লোক এসেছে। দেশের নিরাপত্তা যদি এত ঢিলেঢালা হয় তবে দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে এমনটাই দাবি করেছেন তারা। আবার অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন কে কি উদ্দেশ্য নিয়ে আসছে তা বলা মুশকিল তবে সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানী মুদ্রা নিয়ে কে বা করা ঢুকে ছিল তা অবিলম্বে প্রকাশ্যে আসা দরকার।



















