সমুদ্রে ভারতের আধিপত্য! নৌবাহিনীতে যুক্ত হতে চলেছে ২০০টিরও বেশি নতুন যুদ্ধজাহাজ

Indian Navy: পরিবর্তনশীল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে, ভারতীয় নৌবাহিনী তাদের সক্ষমতা এক অভূতপূর্ব উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে। ২০৩৫ সালের মধ্যে ২০০টিরও বেশি যুদ্ধজাহাজ…

Indian Navy

Indian Navy: পরিবর্তনশীল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে, ভারতীয় নৌবাহিনী তাদের সক্ষমতা এক অভূতপূর্ব উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে। ২০৩৫ সালের মধ্যে ২০০টিরও বেশি যুদ্ধজাহাজ নিয়ে একটি শক্তিশালী ও স্বনির্ভর নৌবহর গড়ে তোলার লক্ষ্যে তারা দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। বর্তমানে ভারতীয় নৌবাহিনীর বহরে প্রায় ১৫০টি বড় আকারের যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন রয়েছে। তাছাড়া, ‘আত্মনির্ভর ভারত’ ও ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের আওতায় দেশের বিভিন্ন শিপইয়ার্ডে ৫০টিরও বেশি যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন নির্মাণ করা হচ্ছে।

২০২৫ সালে নৌবাহিনী মোট ১২টি যুদ্ধজাহাজ ও একটি সাবমেরিন অন্তর্ভুক্ত করেছে। এর ধারাবাহিকতায়, ২০২৬ সালে নৌবহরে আরও প্রায় ১৫টি নতুন জাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে; এটি বাস্তবায়িত হলে তা হবে ভারতীয় নৌবাহিনীর ইতিহাসে এক বছরে সর্বোচ্চ সংখ্যক জাহাজ অন্তর্ভুক্তির রেকর্ড।

Advertisements

ভারতীয় নৌবাহিনী একটি ‘ব্লু-ওয়াটার নেভি’ বা গভীর সমুদ্রগামী নৌবাহিনী, যা কেবল নিজেদের উপকূল রক্ষা করতেই নয়, বরং গভীর সমুদ্রে কৌশলগত শক্তি প্রয়োগেও সক্ষম। এছাড়া, ২০৪৭ সালের মধ্যে যন্ত্রাংশ বা উপাদানের স্তরেও পূর্ণাঙ্গ স্বনির্ভরতা অর্জনের মাধ্যমে একটি ‘সম্পূর্ণ দেশীয় বাহিনী’ হয়ে ওঠাই এই নৌবাহিনীর লক্ষ্য।

পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর নৌ-শক্তি: চিনের নৌ-শক্তির কথা বলতে গেলে, সংখ্যার দিক থেকে তাদের রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম নৌবাহিনী। ‘গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার ইনডেক্স’ অনুযায়ী, তাদের বহরে বিভিন্ন আকারের ৮৪১টিরও বেশি নৌ-যান রয়েছে। চিনের বিশাল নৌবহরে রয়েছে তিনটি সক্রিয় বিমানবাহী রণতরি (লিয়াওনিং, শানডং ও ফুজিয়ান), ৫৩টি ডেস্ট্রয়ার, ৪৬টি ফ্রিগেট এবং ৬১ থেকে ৬৮টি সাবমেরিন। চিনা নৌবাহিনীর জনবল আড়াই লক্ষেরও বেশি এবং তারা জিবুতি ও কম্বোডিয়ার মতো কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করেছে।

পাকিস্তানের নৌবাহিনীর সক্ষমতা ও পরিধি অত্যন্ত সীমিত
চিনের তুলনায় পাকিস্তানের নৌবাহিনীর পরিধি খুবই সীমিত। মূলত উপকূলীয় প্রতিরক্ষায় নিবেদিত হওয়ায় এটিকে ‘গ্রিন-ওয়াটার নেভি’ (উপকূল-কেন্দ্রিক নৌবাহিনী) হিসেবে গণ্য করা হয়। পাকিস্তানের নৌবহরে প্রায় ১২১ থেকে ১৪৮টি নৌযান রয়েছে, যার মধ্যে মাত্র ৩৬টি প্রধান সম্মুখসারির যুদ্ধজাহাজ। তাদের ৮ থেকে ৯টি সক্রিয় সাবমেরিন থাকলেও বিমানবাহী রণতরী বা গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারের মতো বড় আকারের যুদ্ধজাহাজের অভাব রয়েছে।

ভারত তার সামুদ্রিক শক্তি জোরদার করতে চলেছে। একদিকে চিন যখন বিশ্বজুড়ে তাদের নৌ-উপস্থিতি বাড়াচ্ছে এবং পাকিস্তান নিজেদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করছে, তখন ২০৩৫ সালের মধ্যে ২০০টিরও বেশি জাহাজের একটি নৌবহর গড়ে তোলার ভারতের লক্ষ্যটি আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষা ও দেশের কৌশলগত স্বার্থ সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য হবে।