
মুজাফ্ফরনগর: সাধুর আড়ালে অসাধু? কাকে বিশ্বাস করবেন মানুষ (Muzaffarnagar)। যাদের বিশ্বাস করে আশীর্বাদ কামনা করেন সাধারণ মানুষ তাদের ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়াচ্ছে অসাধুরা। ঠিক তেমনই পুলিশের হাতে ধরা পড়ল ৬ জন ছদ্মবেশী সাধু! মুজাফফরনগরে বড় ধরনের অভিযান চালিয়ে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে, যারা সাধু-সন্ন্যাসীর ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। অভিযুক্তদের নাম শাকিল, শোয়েব, ইকবাল, সাজিল, আয়ুব এবং হানিশ। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ফেক আধার কার্ড, বিভিন্ন ধর্মীয় জিনিসপত্র এবং অন্যান্য সন্দেহজনক সামগ্রী।
এই ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তোলপাড় শুরু হয়েছে, কারণ এ ধরনের ছদ্মবেশী অপরাধীরা প্রায়ই সাধারণ মানুষকে ঠকিয়ে বা অন্য অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের মুজাফফরনগর জেলায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন ধরে এলাকায় কিছু লোক সাধুর বেশে ঘুরছিল। তারা ভক্তদের কাছে ভিক্ষা চাইছিল, ধর্মীয় উপদেশ দিচ্ছিল এবং বিভিন্ন মন্দির-মসজিদের আশপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছিল।
আরও দেখুন: নাগাল্যান্ডের রাজনৈতিক ইতিহাসে নয়া অধ্যায়ের সূচনা মোদী সরকারের
কিন্তু তাদের আচরণে সন্দেহ জাগে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। কেউ কেউ লক্ষ্য করেন যে, এরা সাধারণ সাধুর মতো নয় তাদের কথাবার্তা, চালচলন এবং কিছু আচরণ অস্বাভাবিক। এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।পুলিশ দ্রুত অভিযান চালায় এবং ৬ জনকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা সবাই সাধুর পোশাক পরে সমাজের বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে টাকা-পয়সা আদায় করছিল।
তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ফেক আধার কার্ডগুলো দেখে পুলিশ আরও সন্দেহ করে। এছাড়া ধর্মীয় জিনিসপত্র যেমন কমণ্ডলু, রুদ্রাক্ষের মালা, তিলকের সামগ্রী, বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থের ছোট কপি এবং অন্যান্য আইটেম পাওয়া গেছে। পুলিশের ধারণা, এরা শুধু ভিক্ষাবৃত্তি করছিল না, সম্ভবত আরও বড় কোনো পরিকল্পনা ছিল। কেউ কেউ মনে করছেন, এ ধরনের ছদ্মবেশী গ্রুপ প্রায়ই ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে খেলা করে অপরাধ করে, যেমন চুরি, প্রতারণা বা এমনকি আরও গুরুতর অপরাধ।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইপিসির বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রতারণা (ধারা ৪২০), জালিয়াতি (ধারা ৪৬৫, ৪৬৮), পরিচয়পত্র জাল করা এবং অন্যান্য ধারা। পুলিশ জানিয়েছে, ফেক আধার কার্ডগুলো খুবই উন্নত মানের, যা দেখে বোঝা যায় যে এর পিছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র থাকতে পারে। তদন্ত চলছে এবং আরও কয়েকজনকে গ্রেফতারের সম্ভাবনা রয়েছে।
এই ঘটনা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে বলছেন, ধর্মের নামে এ ধরনের প্রতারণা বন্ধ করতে হবে। সাধু-সন্ন্যাসীদের প্রতি সাধারণ মানুষের বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে অপরাধ করা খুবই লজ্জাজনক। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন যে, এরা কি শুধু টাকা আদায়ের জন্য এসব করছিল, নাকি ধর্মীয় উত্তেজনা সৃষ্টি বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল। মুজাফফরনগরের মতো সংবেদনশীল এলাকায় এ ধরনের ঘটনা আরও উদ্বেগজনক।













