
নাগাল্যান্ড: নাগাল্যান্ডের রাজনৈতিক ও উন্নয়নের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি (Nagaland)। এই দিন নয়াদিল্লিতে ভারত সরকার, নাগাল্যান্ড সরকার এবং ইস্টার্ন নাগাল্যান্ড পিপলস অর্গানাইজেশন (ENPO)-এর মধ্যে স্বাক্ষরিত হল গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা চুক্তি বা মেমোরান্ডাম অফ এগ্রিমেন্ট (MoA)। এই চুক্তিকে রাজ্যের জন্য একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছেন নাগাল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী নেফিউ রিও। তাঁর কথায়, এই চুক্তি অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনব্যবস্থা এবং সুষম আঞ্চলিক উন্নয়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নাগাল্যান্ডের মধ্যেই ফ্রন্টিয়ার নাগাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অথরিটি (FNTA) গঠনের সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের দীর্ঘদিনের প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন। তিনি জানান, রাজ্যের প্রতিটি অঞ্চলকে সমান গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়নের মূল স্রোতে আনার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী রিও এই ঐতিহাসিক চুক্তির জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, তাঁদের নেতৃত্ব, দূরদর্শিতা এবং ধারাবাহিক সমর্থন ছাড়া এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সম্ভব হত না। একইসঙ্গে তিনি কেন্দ্র ও রাজ্যের বিভিন্ন দফতরের শীর্ষকর্তা এবং প্রশাসনিক আধিকারিকদেরও ধন্যবাদ জানান, যাঁদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এই দীর্ঘ আলোচনার প্রক্রিয়া সফল হয়েছে।
এছাড়াও তিনি ইস্টার্ন নাগাল্যান্ড পিপলস অর্গানাইজেশন-এর ভূমিকার বিশেষ প্রশংসা করেন। সংগঠনের সভাপতি এবং নেতৃত্বের সহযোগিতা ও গঠনমূলক আলোচনাকে তিনি এই চুক্তির মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর কথায়, এই সমঝোতা পারস্পরিক আস্থা, সংলাপ এবং একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতার ফল।
মুখ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, FNTA গঠনের ফলে পূর্ব নাগাল্যান্ডের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশা পূরণ হবে। একই সঙ্গে রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়নও আরও ত্বরান্বিত হবে। তিনি বলেন, “এই উদ্যোগ নাগাল্যান্ডের প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দেবে।” তাঁর মতে, এই চুক্তি বিভাজনের প্রতীক নয়, বরং ঐক্যের প্রতীক।
পূর্ব নাগাল্যান্ডের মানুষকে অভিনন্দন জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী রিও বলেন, এটি শুধু একটি অঞ্চলের জয় নয়, গোটা নাগা সমাজের সম্মিলিত সাফল্য। তিনি বলেন, “আজকের এই সাফল্যের আনন্দে সব নাগা গোষ্ঠী আপনাদের সঙ্গে একসঙ্গে উদযাপন করছে।” দীর্ঘদিনের সংগ্রাম, ধৈর্য ও সংলাপের পথ পেরিয়ে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে পৌঁছনোর জন্য তিনি পূর্ব নাগাল্যান্ডের মানুষকে কৃতিত্ব দেন।
শেষে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দেন, FNTA-র লক্ষ্য পূরণে তাঁর সরকার পূর্ণ সহযোগিতা করবে, যাতে এই চুক্তির সুফল বাস্তবে মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। পাশাপাশি তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভারত সরকার আগামীতেও নাগাল্যান্ডের সর্বাঙ্গীণ ও টেকসই উন্নয়নের পথে সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা দিয়ে যাবে।







