গেরুয়া রাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার (Healthcare) বেহাল দশার আরও এক করুণ ছবি সামনে এল। মধ্যপ্রদেশের গুনা জেলা হাসপাতালের ভেতরেই অসুস্থ বৃদ্ধ বাবাকে কাঁধে চাপিয়ে ঘুরে বেড়াতে দেখা গেল ছেলেকে। না মিলেছে স্ট্রেচার, না এগিয়ে এসেছে কোনও স্বাস্থ্যকর্মী, এই দৃশ্য ফের প্রশ্ন তুলে দিল রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলির বাস্তব অবস্থা নিয়ে।
ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু গুনা জেলা হাসপাতাল। অসুস্থ বাবা ইমরাত সিংকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে আসেন তাঁর ছেলে মুনেশ রঘুবংশী। কিন্তু হাসপাতালে ঢুকেই কার্যত অসহায় হয়ে পড়েন তিনি। অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে স্ট্রেচার বা কোনও সহায়তা না পেয়ে বৃদ্ধ, অসুস্থ বাবাকে কাঁধে তুলে হাসপাতালের করিডর ধরে ঘুরতে থাকেন মুনেশ। একের পর এক অনুরোধ সত্ত্বেও কোনও ওয়ার্ড বয়, স্বাস্থ্যকর্মী বা কর্মচারী সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেননি।
আরও পড়ুন
বাঙালি পরিচালিত বিজেপি নিয়ন্ত্রিত গ্রাম পঞ্চায়েত দেশের সেরা
চোখের সামনে করুণ এই দৃশ্য দেখেও হাসপাতালের কর্মীদের উদাসীনতা ঘিরে ক্ষোভ দানা বাঁধছে। বহু মিনিট ধরে বাবাকে কোলে-কাঁধে নিয়ে চিকিৎসার আশায় এদিক-ওদিক ঘুরেছেন মুনেশ। অবশেষে, বারবার অনুরোধ ও চরম মানসিক যন্ত্রণার পর একটি স্ট্রেচারের ব্যবস্থা করা হয়।
কিন্তু দুর্ভোগ এখানেই শেষ হয়নি। স্ট্রেচারে বাবাকে শুইয়ে দ্বিতীয় তলায় চিকিৎসার জন্য নিয়ে যেতে গিয়ে আরও বিপাকে পড়েন মুনেশ। অভিযোগ, হাসপাতালের লিফট বন্ধ ছিল। কোনও বিকল্প না পেয়ে একাই র্যাম্প দিয়ে স্ট্রেচার ঠেলতে ও টানতে বাধ্য হন তিনি। বৃদ্ধ বাবার শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়া সত্ত্বেও তখনও কোনও ওয়ার্ড বয় সাহায্যে এগিয়ে আসেননি বলে অভিযোগ।
আরও পড়ুন
মৌমাছির কামড় থেকে শিশুদের বাঁচিয়ে চরম পরিণতি অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর
যোগী রাজ্যে শাহজাদের অত্যাচারে বাড়ি বিক্রি করতে হচ্ছে হিন্দুদের
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গুনা জেলা হাসপাতালে মোট ১৫ জন ওয়ার্ড বয় কর্মরত। তিনটি শিফটে স্ট্রেচার ডিউটির জন্য একজন করে ওয়ার্ড বয় থাকার কথা। বাকি কর্মীদের বিভিন্ন মেডিক্যাল ওয়ার্ডে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তা সত্ত্বেও ঘটনার সময় কেন কোনও কর্মী সামনে এলেন না, তা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।
মুনেশ রঘুবংশীর দাবি, তাঁর বাবা ইমরাত সিং উচ্চ রক্তচাপের রোগী। দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল বলেই তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “বাবাকে কাঁধে নিয়ে হাসপাতালের ভেতর ঘুরে বেড়াতে হয়েছে। সাহায্যের জন্য কাকুতি-মিনতি করেছি, কিন্তু কেউ সাড়া দেয়নি।” এখনও সেই আতঙ্ক ও হতাশা কাটিয়ে উঠতে পারেননি তিনি।
এ নিয়ে জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক রাজকুমার ঋষিশ্বর। তিনি জানান, এই ধরনের ঘটনা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। “ওয়ার্ড বয়দের স্ট্রেচার নিয়ে রোগীকে সহায়তা করা উচিত ছিল। কে বা কারা ওই সময় ডিউটিতে ছিলেন, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করা হবে। দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে,” আশ্বাস দেন তিনি।
উল্লেখযোগ্যভাবে, গুনা জেলা হাসপাতাল থেকে এ ধরনের অভিযোগ এই প্রথম নয়। রোগী ও তাঁদের আত্মীয়দের অভিযোগ, এখানে প্রায়ই প্রাথমিক পরিষেবার অভাব দেখা যায়। স্টাফের অনুপস্থিতি, সহায়তার ঘাটতি এবং দুর্বল ব্যবস্থাপনা নিত্যদিনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, বারবার এমন ঘটনা ঘটার পরও কেন পরিস্থিতির কোনও স্থায়ী পরিবর্তন হচ্ছে না?




















