
নয়াদিল্লি, ১১ ডিসেম্বর: দেশের বিচারব্যবস্থা নিয়ে চলতে থাকা বিতর্কের মাঝখানে (motivated campaign against CJI Surya Kant)তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালেন সুপ্রিম কোর্ট এবং বিভিন্ন হাই কোর্টের মোট ৪৪ জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি। প্রধান বিচারপতি সুর্য কান্তকে লক্ষ্য করে যে ‘প্রণোদিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচার’ বা ‘মোটিভেটেড ক্যাম্পেইন’ চালানো হচ্ছে, তাকে তাঁরা “বিপজ্জনক ও ষড়যন্ত্রমূলক” বলে অভিহিত করেছেন। তাঁদের বক্তব্য রুটিন বা স্বাভাবিক আইনি প্রশ্নকে বিকৃত করে পক্ষপাতদুষ্টতার অভিযোগ তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা সরাসরি বিচারব্যবস্থার সুনাম ও স্বাধীনতার উপর আঘাত।
সম্প্রতি একটি মামলার শুনানিতে সিজেআই সুর্য কান্ত জানতে চান রোহিঙ্গাদের কি ভারতের তরফে সরকারি ভাবে ‘শরণার্থী’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে? শুনানির স্বার্থেই তিনি এই প্রশ্ন করেছিলেন বলে আইনজীবী-মহলের অনেকেই মন্তব্য করেন। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার একটি অংশ এবং কিছু “অ্যাক্টিভিস্ট গ্রুপ” ওই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে তীব্র সমালোচনা শুরু করে। তাঁদের অভিযোগ সিজেআই নাকি পক্ষপাতদুষ্ট, বিশেষ এক রাজনৈতিক মতাদর্শের দিকে ঝুঁকে আছেন।
আসন্ন বিশ্বকাপে নজর কাড়তে পারেন কেরালা ব্লাস্টার্সের এই দুই প্রাক্তনী
এই অভিযোগগুলোকেই ‘অযৌক্তিক’ ও ‘বিকৃত ব্যাখ্যা’ বলে আখ্যা দিয়ে যৌথ বিবৃতি দেন ৪৪ জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি। প্রকাশিত বিবৃতিতে বিচারপতিরা স্পষ্ট বলেন “সিজেআই যেটি জিজ্ঞেস করেছিলেন, তা ছিল একটি স্বাভাবিক আইনি প্রশ্ন। একটি মামলার প্রেক্ষিতে তথ্য যাচাই ছাড়া বিচারের কোনো পথ নেই। সেই প্রশ্নের ভুল ব্যাখ্যা করে বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক রং দেওয়ার চেষ্টা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।”
তাঁদের মতে, আদালতের ভিতরে যা ঘটে তা আইনি প্রক্রিয়ার অংশ এটা আক্রমণ বা পক্ষপাতের পরিচয় নয়। কিন্তু তথাকথিত ‘‘ইকো-সিস্টেমের যোদ্ধারা’’ সামাজিক মাধ্যমে এমনভাবে প্রচার করছেন যেন বিচারব্যবস্থা এক পক্ষের হয়ে মন্তব্য করছে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের ভাষায় এটি “নির্লজ্জভাবে বিচারব্যবস্থাকে দুর্বল করার চেষ্টা”।
বিচারপতিদের অভিযোগ, কিছু বিশেষ মহল আদালতের প্রতিটি রুটিন প্রশ্নকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃত করে বিচারব্যবস্থার উপর মানুষের আস্থা নষ্ট করতে চাইছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে “যখন বিচারালয় কোনো প্রশ্ন করে, তখন তা সত্য উদঘাটনের উদ্দেশ্যে। কিন্তু যদি সত্য কারও বর্ণনার সঙ্গে না মেলে, তখনই আদালতের বিরুদ্ধে প্রচার শুরু হয়। এটিই বিচারব্যবস্থা দুর্বল করার সবচেয়ে বড় অস্ত্র হয়ে উঠেছে।”
তাঁদের মতে, গণতন্ত্রের ভিত মজবুত রাখতে বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা রক্ষা করা জরুরি। আদালতের বিরুদ্ধে এমন আক্রমণ কেবল ব্যক্তিগত মানহানি নয় এটি দেশের বিচারিক কাঠামোর ওপর আঘাত। আইনজীবীদের একাংশ মনে করেন, সিজেআই-এর করা প্রশ্নটি ছিল সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াগত।
কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা সরকারের সমালোচনা বা সমর্থন করার উদ্দেশ্যে তা করা হয়নি। একজন সিনিয়র অ্যাডভোকেট বলেন, “বিচারপতিরা যখন কোনো মামলার মৌলিক তথ্য জানতে চান, তখন তা বিচারপ্রক্রিয়ার অঙ্গ। এখানে পক্ষপাত খোঁজা নিজেই অসৎ উদ্দেশ্যের পরিচয়।”
আইনজীবী মহলের একাংশের মতে, আদালতকে ঘিরে জনমত তৈরির এই প্রবণতা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে সংবেদনশীল রাজনৈতিক মামলায় আদালতের মন্তব্যকে বিকৃত করা এখন প্রায় নিয়মিত ঘটনা। ফলে বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা রক্ষায় অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের এই বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
সর্বোপরি, ৪৪ জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির এই যৌথ বিবৃতি স্পষ্ট করে দিয়েছে বিচারব্যবস্থাকে আক্রমণ বা প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা সহ্য করা হবে না। তাঁদের মতে, ‘‘যখন তথ্য কোনো পক্ষের বর্ণনার সঙ্গে মেলে না, তখন আদালতকে দোষী করার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে।’’দেখার বিষয়, এই বার্তার পরে বিতর্ক কতটা প্রশমিত হয়।










