রামের নাম ব্যবহার করে অনেকে জেলে, কেউ ফাঁসিতে—তীব্র মন্তব্য মনোজ ঝাঁর

MGNREGA নামকরণ নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রাজ্যসভায় RJD সাংসদ মনোজ ঝাঁ (Manoj Jha)। তাঁর বক্তব্য শুধু নাম পরিবর্তন বা শব্দচয়নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়,…

manoj-jha-questions-moral-authority-of-invoking-ram-in-politics

MGNREGA নামকরণ নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রাজ্যসভায় RJD সাংসদ মনোজ ঝাঁ (Manoj Jha)। তাঁর বক্তব্য শুধু নাম পরিবর্তন বা শব্দচয়নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পটির মূল চরিত্র, উদ্দেশ্য এবং বর্তমান বাস্তবতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছেন। সংসদে দেওয়া বক্তব্যে মনোজ ঝা বলেন, “এই প্রথম এমন এক ধরনের ছন্দ শুনছি যেখানে হিন্দি ও ইংরেজি ভাষাকে মিলিয়ে নাম তৈরি করা হয়েছে। এটি শুনতে যেমন অদ্ভুত, তেমনই অর্থহীন।”

Advertisements

মনোজ ঝাঁর মতে, কোনও প্রকল্পের নামকরণে ভাষাগত কসরত বা ছন্দ তৈরির চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেই প্রকল্প কীভাবে কাজ করছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনে তার প্রভাব কী। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, রামের নামের প্রতি তাঁর বা তাঁর দলের কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী, রামের নাম ব্যবহার করলেই কেউ নৈতিকভাবে শুদ্ধ হয়ে যায় না। তাঁর ভাষায়, “কিছু মানুষ রামের নাম ব্যবহার করে এমন কাজ করেছেন যার জন্য আজ তারা জেলে রয়েছেন, আবার কেউ কেউ ফাঁসিতেও ঝুলেছেন।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে ধর্মীয় প্রতীক বা নাম রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে বাস্তব সমস্যাকে আড়াল করা যায় না।

   

MGNREGA প্রকল্পের প্রসঙ্গে মনোজ ঝাঁ বিশেষভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এর কার্যকরী রূপান্তর নিয়ে। তাঁর অভিযোগ, যে প্রকল্পটি একসময় ছিল সম্পূর্ণ চাহিদাভিত্তিক বা ডিমান্ড-ড্রিভেন, সেটি ধীরে ধীরে পরিণত হয়েছে নির্দেশনাভিত্তিক বা কমান্ড-ড্রিভেন প্রকল্পে। অর্থাৎ, গ্রামের মানুষ কোথায়, কখন কাজ চাইবেন—এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার এখন আর পুরোপুরি তাঁদের হাতে নেই। কেন্দ্র বা প্রশাসনের নির্দেশেই কাজের পরিমাণ, সময় ও প্রকৃতি নির্ধারিত হচ্ছে। তিনি বলেন, MGNREGA-র মূল দর্শন ছিল গ্রামীণ দরিদ্র মানুষের হাতে কাজের অধিকার তুলে দেওয়া। কাজ চাওয়াই ছিল এই আইনের প্রাণ। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে বহু জায়গায় কাজ চাইলে কাজ মিলছে না, আবার কোথাও কাগজে-কলমে কাজ দেখিয়ে প্রকৃত মজুরি সময়মতো দেওয়া হচ্ছে না। নাম পরিবর্তন বা নতুন সংযোজন করে এই বাস্তব সংকট ঢেকে ফেলা যাবে না বলেই তাঁর মত।

মনোজ ঝাঁ আরও অভিযোগ করেন, সরকারের পক্ষ থেকে প্রতীকী রাজনীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, যেখানে নাম, ভাষা ও আবেগ নিয়ে বেশি আলোচনা হলেও প্রকল্পের বাজেট, কর্মদিবসের সংখ্যা, মজুরি বকেয়া বা কাজের গুণগত মান নিয়ে আলোচনা প্রায় নেই। তাঁর মতে, এটি গণতান্ত্রিক পরিসরে একটি বিপজ্জনক প্রবণতা, কারণ এতে নীতিগত প্রশ্নের জায়গা সংকুচিত হয়ে যায়।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংসদ ও জনপরিসরে আলোচনা হওয়া উচিত বাস্তব ইস্যু নিয়ে—কেন গ্রামীণ বেকারত্ব বাড়ছে, কেন পরিযায়ী শ্রমিকদের সংখ্যা কমছে না, কেন বহু পরিবার বছরে ১০০ দিনের কাজও পাচ্ছে না। নাম বদল বা ছন্দ তৈরি করে এই প্রশ্নগুলির উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়।

Advertisements