নয়াদিল্লি: মধ্যবিত্তের সস্তা ঋণের অপেক্ষায় আপাতত জল ঢালল দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। জুনের ঋণনীতি বৈঠকের শেষে রেপো রেটে (Repo Rate) কোনও পরিবর্তন না করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করল রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)। এর ফলে দেশে রেপো রেট বর্তমানে ৫.২৫ শতাংশেই অপরিবর্তিত রইল। বুধবার, ৩ জুন থেকে শুরু হওয়া রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মুদ্রানীতি কমিটির (MPC) তিন দিনের বৈঠক শেষ হল আজ, ৫ জুন। বৈঠকের পর আরবিআই-এর গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। (rbi keeps repo rate unchanged at 5-25 percent)
সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে, এই রেপো রেট আসলে কী এবং এর সাথে সাধারণের পকেটের সম্পর্ক কোথায়? সহজ ভাষায়, রেপো রেট হল এক ধরনের সুদের হার, যে হারে দেশের বিভিন্ন বাণিজ্যিক বা কমার্শিয়াল ব্যাঙ্কগুলিকে টাকা ধার দেয় আরবিআই। ফলে রেপো রেট কমলে বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলিও কম সুদে টাকা পায় এবং গ্রাহকদের হোম লোন বা কার লোনের মতো বিভিন্ন ঋণের সুদের হার বা ইএমআই (EMI) কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়। কিন্তু জুনের বৈঠকে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখায়, আপাতত আমজনতার লোনের মাসিক কিস্তি কমার কোনও লক্ষণ নেই বলেই মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।
উল্লেখ্য, গত ২০২৫ সালের শুরু থেকেই দেশের বাজারে সুদের হার ধারাবাহিকভাবে কমিয়ে এনেছিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসেও দেশের রেপো রেট ছিল ৬.৫০ শতাংশ। এরপর দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে একাধিক দফায় মোট ১২৫ বেসিস পয়েন্ট বা ১.২৫ শতাংশ সুদের হার হ্রাস করা হয়। যার জেরে গত ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ রেপো রেট কমে দাঁড়ায় ৫.২৫ শতাংশে।
২০২৫ সালে পরপর ছাড় দিলেও, ২০২৬ সালে পা দিয়ে কিন্তু সম্পূর্ণ উল্টো পথ হেঁটেছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। চলতি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি এবং এপ্রিলের পর এবার জুনের বৈঠক, পর পর তিনটি ঋণনীতি বৈঠকেই সুদের হারে কোনও কাটছাঁট করল না আরবিআই।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই মুহূর্তে দেশের মূল্যবৃদ্ধি বা মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও আন্তর্জাতিক স্তরের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামের অনিশ্চয়তা ভাবাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ককে। আর সেই কারণেই কোনও রকম তাড়াহুড়ো না করে আপাতত অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান বজায় রাখলেন গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা।




















