বাঁচবে না জামাতও! ভোর থেকে অপারেশন শুরু কুলগামে

শ্রীনগর, ১২ নভেম্বর: দিল্লির লাল কেল্লার কাছে সোমবার সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া ভয়াবহ গাড়ি বিস্ফোরণের ধাক্কা এখনও কাটেনি। কিন্তু এর প্রতিক্রিয়ায় জম্মু-কাশ্মীরের দক্ষিণ কাশ্মীরে একটা তীব্র নিরাপত্তা অভিযান শুরু ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
kulgam-anti-terror-operation-jamaat-e-islami-2025

শ্রীনগর, ১২ নভেম্বর: দিল্লির লাল কেল্লার কাছে সোমবার সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া ভয়াবহ গাড়ি বিস্ফোরণের ধাক্কা এখনও কাটেনি। কিন্তু এর প্রতিক্রিয়ায় জম্মু-কাশ্মীরের দক্ষিণ কাশ্মীরে একটা তীব্র নিরাপত্তা অভিযান শুরু হয়েছে। কুলগাম জেলার পুলিশ বুধবার সকাল থেকে প্রায় ২০০-এর বেশি জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছে। সবগুলো লক্ষ্য ছিল নিষিদ্ধ সংগঠন জামাত-ই-ইসলামী (জেআই)-এর সদস্য এবং তাদের সহযোগীদের বাড়ি-ঘর।

এই অভিযানের উদ্দেশ্য স্পষ্ট: সন্ত্রাসের প্রতিটি চিহ্ন মুছে ফেলা এবং সামাজিক-ধর্মীয় আড়ালে লুকিয়ে কাজ করা স্লিপার সেলগুলোকে সম্পূর্ণভাবে ভেঙে দেওয়া। বিস্ফোরণে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে এখনও সন্দেহ, এবং এই অভিযান সেই ঘটনার সঙ্গে জেএম মডিউলের যোগসূত্রকে নিয়ে আরও গভীর তদন্তের অংশ।কল্পনা করুন, কুলগামের পাহাড়ি গ্রামগুলোতে ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের দলগুলো ছুটে যায়।

   

দিল্লি বিস্ফোরণে শ্রীনগর থেকে গ্রেফতার আরও এক ডাক্তার

ওজিডব্লিউ (ওভার গ্রাউন্ড ওয়ার্কার্স), জেকে এনওপিএস (জম্মু কাশ্মীর ন্যাশনাল প্যান্থার্স), এমনকি অতীতে সংঘর্ষের স্থান এবং সক্রিয় বা নিহত সন্ত্রাসীদের আস্তানায় একযোগে হানা। গত চার দিনে এই জেলায় ৪০০-এর বেশি ঘেরাও এবং অনুসন্ধান অভিযান (সিএএসও) চালানো হয়েছে। পুলিশের স্টেটমেন্টে বলা হয়েছে, “আমরা সন্ত্রাসবাদ এবং তার ইকোসিস্টেমের প্রতি শূন্য সহনশীলতার নীতিতে অটল।

জেলায় শান্তি এবং জনসাধারণের অর্ডারকে কোনো উপাদান বিঘ্নিত করতে দেব না।” ছাপামারির সময় ইনক্রিমিনেটিং ডকুমেন্টস, ডিজিটাল ডিভাইস এবং অন্যান্য প্রমাণস্বরূপ উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছে, যা তদন্তকে নতুন গতি দেবে।এই অভিযানের পটভূমি দিল্লির সেই ভয়ংকর বিস্ফোরণ। সোমবার সন্ধ্যা ৬:৫০-এর দিকে লাল কেল্লা মেট্রো স্টেশনের গেট নম্বর ১-এর কাছে একটা সাদা হুন্ডাই আই-২০ গাড়ি রেড লাইটে থামতেই হঠাৎ প্রচণ্ড ধমাক।

সিসিটিভিতে ধরা পড়েছে আগুনের লেলিহান শিখা, ধোঁয়ার মেঘ এবং চারপাশে ছড়ানো ধ্বংসাবশেষ। পুলিশের ধারণা, এটি ছিল জৈশ-ই-মোহাম্মদ (জেএম)-এর একটা মডিউলের প্যানিক-ড্রিভেন ফিদায়িন হামলা। মডিউলের সদস্যরা—যাদের মধ্যে ছিলেন ডাক্তার উমর মোহাম্মদ নবী এবং তাঁর সহকর্মীরা—সিকিউরিটি এজেন্সিগুলোর ছাপামারির ভয়ে গাড়িতে লোড করা আরডিএক্স বিস্ফোরকটি অকালে ফাটিয়ে ফেলেন।

এতে নিজের সঙ্গে ১২ জনের প্রাণ নেওয়া হয়। তদন্তে জানা গেছে, এই মডিউলের সঙ্গে জেআই-এর গভীর যোগাযোগ ছিল, যা সামাজিক কাজের নামে সন্ত্রাস ফান্ডিং এবং রিক্রুটমেন্ট চালাত। দিল্লি বিস্ফোরণের পর থেকে ভ্যালিতে ভেহিকল চেকিং বাড়ানো হয়েছে—অনন্তনাগ, পুলওয়ামা, কুলগাম, বরামুল্লা, গান্ডারবাল এবং শোপিয়ানে জাতীয় মহাসড়ক এবং গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় কড়া নজরদারি।

জামাত-ই-ইসলামী—যা ২০১৯ সাল থেকে নিষিদ্ধ—কাশ্মীরে একটা ছায়ামূলক সংগঠন। বাইরে দেখতে ধর্মীয় শিক্ষা এবং দাতব্য কাজের মুখোশ, কিন্তু ভিতরে সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর সঙ্গে ফান্ডিং এবং লজিস্টিক সাপোর্ট। পুলিশের সূত্র জানাচ্ছে, এই সংগঠনের ঘুমন্ত সেলগুলো টেলিগ্রাম এবং অন্যান্য অ্যাপে কোঅর্ডিনেট করে দিল্লির মতো বড় শহরে হামলার পরিকল্পনা করছিল।

কুলগামে এই তল্লাশি তারই একটা বড় ধাক্কা। শোপিয়ান জেলাতেও অনুরূপ অভিযান চলছে, যেখানে জেআই-এর অ্যাকটিভিস্টদের বাড়িতে অনুসন্ধান হয়েছে। সোপোর, জেইনগীর এবং রাফিয়াবাদে ২৫-এর বেশি জায়গায় সমন্বিত অভিযান চালানো হয়েছে। এই অভিযানগুলোতে অন্যান্য সিকিউরিটি ফোর্সের সহযোগিতা রয়েছে, যাতে কোনো লিঙ্ক পালাতে না পারে।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google