কুডানকুলম পরমাণু প্রকল্পে তথ্য ফাঁস? বড় দাবি খারিজ কেন্দ্রের, কী জানাল সরকার

কুডানকুলম পরমাণু প্রকল্পের নথি ফাঁসের দাবির পর কেন্দ্র জানাল, সংবেদনশীল বা নিরাপত্তা-সংক্রান্ত কোনও তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। তদন্ত অবশ্য চলছে।

kudankulam-nuclear-plant-data-leak-claim-centre-response

নয়াদিল্লি: তামিলনাড়ুর কুডানকুলম পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র (Kudankulam Nuclear Power Plant)-এর গুরুত্বপূর্ণ নথি ফাঁসের দাবি ঘিরে উদ্বেগের মাঝেই স্পষ্ট অবস্থান নিল কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং জানিয়েছেন, পরমাণু নিরাপত্তা বা জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনও সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস হয়নি। ফলে আতঙ্কের কোনও কারণ নেই।

এর আগে নিউক্লিয়ার পাওয়ার কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া লিমিটেড (NPCIL)-ও জানিয়েছিল, যে নথিগুলি প্রকাশ্যে এসেছে সেগুলি মূলত প্রকল্পের Engineering, Procurement and Construction (EPC) চুক্তির Balance of Plant (BoP) অংশের সঙ্গে সম্পর্কিত। এগুলির সঙ্গে পরমাণু নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোনও সম্পর্ক নেই।

কী নিয়ে বিতর্ক?

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ‘World Leaks’ নামে একটি র্যােনসমওয়্যার গোষ্ঠী কুডানকুলম প্রকল্পের ১৯ হাজারেরও বেশি ফাইল হাতিয়ে নিয়েছে। ওই নথিগুলির মধ্যে ছিল বলে দাবি করা হয়:
• ইঞ্জিনিয়ারিং ডকুমেন্ট
• ভেন্ডর ও সরবরাহকারীদের তথ্য
• বৈঠকের নথি
• ২০১৬ থেকে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত বিভিন্ন প্রকল্প-সংক্রান্ত রেকর্ড
এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।

Also Read | বন্দেমাতরম অবমাননা ফৌজদারি অপরাধ! বাদল অধিবেশনে নয়া বিল মোদীর

কী বলল কেন্দ্র?

জিতেন্দ্র সিং বলেন, এই ঘটনায় পরমাণু কেন্দ্রের নিরাপত্তা বা নিরাপত্তা-সংক্রান্ত কোনও তথ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। তাই বিষয়টি নিয়ে নতুন করে নিরাপত্তা পর্যালোচনার প্রয়োজন নেই।
তিনি জানান, ঘটনাটি পরমাণু নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, বরং প্রকল্পের সাধারণ অবকাঠামোগত কাজের কিছু নথি প্রকাশ্যে এসেছে।

NPCIL-এর ব্যাখ্যা

NPCIL জানিয়েছে, ফাঁস হওয়া তথ্য Balance of Plant (BoP)-এর সাধারণ পরিষেবা অবকাঠামোর EPC চুক্তি সম্পর্কিত।
এই অংশে রয়েছে:
• ইঞ্জিনিয়ারিং
• সরঞ্জাম সংগ্রহ
• নির্মাণ
• কমিশনিং
সংস্থার দাবি, এগুলি সাধারণ শিল্প প্রকল্প বা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রেও ব্যবহৃত অবকাঠামো, পরমাণু রিঅ্যাক্টর বা নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে এর কোনও যোগ নেই।

Also Read | সন্ত্রাসবাদ অর্থায়নে ফের নজরে বাংলা! কালিকাপুরের মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার ৪০লক্ষ নগদ-১৮০ গ্রামের সোনার মুদ্রা

কার হাতে ছিল চুক্তি?

NPCIL জানিয়েছে, ২০১৮ সালে প্রকাশ্য টেন্ডারের মাধ্যমে Reliance Infrastructure Limited-কে এই Balance of Plant প্রকল্পের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
অন্যদিকে, রিলায়েন্স গ্রুপ স্বীকার করেছে যে তৃতীয় পক্ষের ডেটা সেন্টার Yotta-তে হোস্ট করা একটি সার্ভারে আংশিক তথ্য ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি সরকারকে জানানো হয়েছে বলেও সংস্থার দাবি।

তদন্ত চলছে

ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে:
• CERT-In (Indian Computer Emergency Response Team)
• NPCIL
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, রিঅ্যাক্টর বা পরমাণু নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আক্রান্ত হয়েছে এমন কোনও প্রমাণ এখনও মেলেনি। তবে প্রকল্প-সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত তথ্য বা ঠিকাদারদের তথ্য ভবিষ্যতে সাইবার হামলার ক্ষেত্রে অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

কুডানকুলম প্রকল্প সম্পর্কে

তামিলনাড়ুর কুডানকুলমে রাশিয়ার সহযোগিতায় ছয়টি VVER প্রেসারাইজড ওয়াটার রিঅ্যাক্টর নির্মাণ করা হচ্ছে।
• ১ ও ২ নম্বর ইউনিট ইতিমধ্যেই চালু রয়েছে।
• ৩ ও ৪ নম্বর ইউনিট নির্মাণাধীন এবং ২০২৭ সালের মধ্যে চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সরকারের দাবি, সাম্প্রতিক তথ্য ফাঁসের ঘটনায় পরমাণু কেন্দ্রের নিরাপত্তা, পরিচালনা বা রিঅ্যাক্টর ব্যবস্থার কোনও ক্ষতি হয়নি, তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।