
উত্তরাখণ্ডের কেদারনাথের (kedarnath) কাছে রবিবার একটি মর্মান্তিক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় হেলিকপ্টার পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা আরিয়ান এভিয়েশন প্রাইভেট লিমিটেডের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে একটি দুই বছরের শিশু এবং হেলিকপ্টারের পাইলটও রয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার জন্য খারাপ আবহাওয়াকে দায়ী করা হচ্ছে। দুর্ঘটনাটি ঘটেছে গৌরীকুণ্ড (kedarnath) এবং ত্রিয়ুগিনারায়ণের মধ্যে গৌরী মাই খর্কের জঙ্গলে। এই হেলিকপ্টারটি ছিল বেল ৪০৭ মডেলের, যা আরিয়ান এভিয়েশন প্রাইভেট লিমিটেডের মালিকানাধীন।
সংস্থার অ্যাকাউন্টেবল ম্যানেজার কৌশিক পাঠক এবং ম্যানেজার বিকাশ তোমারের বিরুদ্ধে সোনপ্রয়াগ থানায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা (বিএনএস) এবং বিমান আইন ১৯৩৪-এর ধারা ১০-এর অধীনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের জন্য তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং সংস্থার অবহেলা ও নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার বিবরণ
রবিবার সকালে কেদারনাথের (kedarnath) কাছে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। হেলিকপ্টারটি তীর্থযাত্রীদের নিয়ে কেদারনাথ থেকে গৌরীকুণ্ডের দিকে যাচ্ছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় এলাকায় ঘন কুয়াশা এবং প্রতিকূল আবহাওয়া ছিল। এই আবহাওয়ার কারণে পাইলট সম্ভবত দৃষ্টিসীমা হারিয়ে ফেলেন, যার ফলে হেলিকপ্টারটি গৌরী মাই খর্কের ঘন জঙ্গলে বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, কিন্তু ততক্ষণে হেলিকপ্টারে থাকা সাতজন যাত্রী এবং পাইলটের মৃত্যু হয়।
নিহতদের মধ্যে ছিলেন একটি দুই বছরের শিশু, যার মৃত্যু এই ঘটনাকে আরও মর্মান্তিক করে তুলেছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। নিহতদের পরিচয় এখনও পুরোপুরি প্রকাশ করা হয়নি, তবে তাঁরা সকলেই তীর্থযাত্রী বলে জানা গেছে।
আরিয়ান এভিয়েশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ (kedarnath)
আরিয়ান এভিয়েশন প্রাইভেট লিমিটেডের (kedarnath) বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তারা প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও হেলিকপ্টার পরিচালনার অনুমতি দিয়েছে, যা নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের শামিল। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সংস্থাটি আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং নিরাপত্তা প্রোটোকল সম্পর্কে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করেনি।
এছাড়াও, হেলিকপ্টারের (kedarnath) রক্ষণাবেক্ষণ এবং পাইলটের প্রশিক্ষণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সোনপ্রয়াগ থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “আমরা আরিয়ান এভিয়েশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছি। তদন্তে আমরা হেলিকপ্টারের রক্ষণাবেক্ষণ, পাইলটের প্রশিক্ষণ এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস সম্পর্কে সংস্থার সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখছি। যদি অবহেলা বা নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বিমান আইন ও নিরাপত্তা বিধি
বিমান আইন ১৯৩৪-এর ধারা ১০-এর অধীনে, বিমান পরিচালনার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের জন্য দায়ী ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যেতে পারে। এই আইন অনুযায়ী, বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ, পাইলটের প্রশিক্ষণ এবং আবহাওয়ার পরিস্থিতি বিবেচনা করে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য কঠোর নির্দেশিকা মেনে চলতে হয়। আরিয়ান এভিয়েশনের (kedarnath) বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা এই নির্দেশিকা মানেনি, যার ফলে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
এছাড়াও, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা আইনের (বিএনএস) অধীনে অবহেলার কারণে মৃত্যু বা ক্ষতির জন্য দায়ী ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা যেতে পারে। এই ক্ষেত্রে, পুলিশ তদন্ত করে দেখছে যে আরিয়ান এভিয়েশনের কর্মকর্তারা তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন কিনা।
স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা
দুর্ঘটনার পরপরই উত্তরাখণ্ডের (kedarnath) স্থানীয় প্রশাসন এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ) ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। তবে ঘন জঙ্গল এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজে বাধার সম্মুখীন হতে হয়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এই এলাকায় প্রায়ই ঘন কুয়াশা এবং বৃষ্টির কারণে দৃষ্টিসীমা কমে যায়, যা হেলিকপ্টার পরিচালনার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
উত্তরাখণ্ডের (kedarnath) মুখ্যমন্ত্রী দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “এই দুর্ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক। আমরা তদন্তের মাধ্যমে এর কারণ জানার চেষ্টা করছি এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
কেদারনাথ (kedarnath) ভারতের অন্যতম পবিত্র তীর্থস্থান, যেখানে প্রতি বছর লাখ লাখ তীর্থযাত্রী আসেন। হেলিকপ্টার পরিষেবা এই তীর্থযাত্রীদের জন্য একটি জনপ্রিয় এবং দ্রুত যাতায়াতের মাধ্যম। তবে, এই দুর্ঘটনা তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয়রা এবং তীর্থযাত্রীরা জানিয়েছেন, প্রতিকূল আবহাওয়ায় হেলিকপ্টার পরিচালনার ক্ষেত্রে আরও কঠোর নিয়ম মেনে চলা উচিত।
একজন তীর্থযাত্রী বলেন, “আমরা এই পরিষেবার উপর নির্ভর করি কারণ এটি সময় বাঁচায়। কিন্তু নিরাপত্তার বিষয়ে কোনও আপস করা উচিত নয়।” এই ঘটনার পর অনেকে হেলিকপ্টার পরিষেবার নিরাপত্তা মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
দিঘায় আকাশছোঁয়া হোটেলভাড়া, রাস টানতে রথযাত্রার আগেই কড়া পদক্ষেপ প্রশাসনের
ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
এই দুর্ঘটনার পর আরিয়ান এভিয়েশনের অন্যান্য হেলিকপ্টার পরিষেবা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংস্থাটির বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। এছাড়াও, উত্তরাখণ্ড সরকার তীর্থযাত্রীদের জন্য হেলিকপ্টার পরিষেবার নিরাপত্তা মান পর্যালোচনা করার কথা বিবেচনা করছে।
এই ঘটনা আমাদের সকলের জন্য একটি সতর্কবার্তা। তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর আরও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন।










