
শ্রীনগর: জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ একটি বড় ধরনের সন্ত্রাসবাদী চক্র ভেঙে দিয়ে দেশজুড়ে আলোড়ন তুলেছে। (Jammu Kashmir)লস্কর-ই-তৈবা (LeT)-এর একটি বিস্তৃত আন্তঃরাজ্য নেটওয়ার্ক উন্মোচিত হয়েছে, যেখানে জাল আধার কার্ড, প্যান কার্ড এবং জাল পাসপোর্ট ব্যবহার করে জঙ্গিদের লজিস্টিক সাপোর্ট দেওয়া হত। এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে দিল্লির রেড ফোর্ট বিস্ফোরণের তদন্তেরও যোগসূত্র পাওয়া গেছে। পুলিশের অভিযানে হরিয়ানা, রাজস্থানসহ একাধিক রাজ্য থেকে গ্রেফতার হয়েছে। এছাড়াও এই জাল নথি কেন্দ্রে মিলেছে বাংলাদেশ যোগ।
সম্প্রতি জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলির সঙ্গে যৌথ অভিযান চালিয়ে শ্রীনগরসহ বিভিন্ন এলাকায় ১৯টিরও বেশি জায়গায় তল্লাশি চালায়। এতে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়, যাদের মধ্যে দুজন পাকিস্তানি নাগরিক। একজনের নাম আবদুল্লাহ ওরফে আবু হুরেইরা যিনি প্রায় ১৬ বছর ধরে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর নজর এড়িয়ে চলছিলেন। অন্যজন উসমান খুবাইব। তদন্তে উঠে এসেছে, এই চক্র জাল নথিপত্র তৈরি করে জঙ্গিদের ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ঘুরে বেড়াতে সাহায্য করত।
এমনকি একজন বিদেশি জঙ্গি জাল পাসপোর্ট ব্যবহার করে দেশের বাইরে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিল।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, লস্কর-ই-তৈবার এই মডিউল শুধু কাশ্মীরেই সীমাবদ্ধ ছিল না। হরিয়ানা ও রাজস্থান থেকে গ্রেফতার হওয়া ব্যাক্তিরা ব্যক্তিরা জাল আধার, প্যান কার্ড এবং অন্যান্য পরিচয়পত্র তৈরিতে সাহায্য করত। এই জাল নথি ব্যবহার করে জঙ্গিরা সহজেই হোটেল, ভাড়া বাড়ি বা অন্যান্য জায়গায় আস্তানা গড়ে তুলত। তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছেন, এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অর্থ সরবরাহ, অস্ত্র স্থানান্তর এবং লজিস্টিক সাপোর্ট দেওয়া হত।
উদ্ধারকৃত জিনিসপত্রের মধ্যে অস্ত্র, জাল নথিপত্র এবং বিভিন্ন রাজ্যের ঠিকানাসহ ডকুমেন্ট রয়েছে।এই অভিযানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এটি দিল্লির রেড ফোর্ট এলাকায় ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণের তদন্তের সঙ্গে যুক্ত। সেই ঘটনার পর থেকেই গোয়েন্দারা লস্কর-ই-তৈবার সম্ভাব্য আক্রমণের পরিকল্পনা নিয়ে সতর্ক ছিলেন। এখন জানা যাচ্ছে, জাল নথির মাধ্যমে জঙ্গিরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সক্রিয় ছিল। তামিলনাড়ু, পশ্চিমবঙ্গসহ অন্যান্য রাজ্যেও একই ধরনের জাল আধার ব্যবহার করে সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার করা হয়েছে, যাদের সঙ্গে পাকিস্তানের আইএসআই এবং বাংলাদেশভিত্তিক গোষ্ঠীর যোগাযোগ রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

