নয়াদিল্লি: জুন মাসে শতাব্দীর অন্যতম শুষ্ক পরিস্থিতির সাক্ষী থাকার পর, জুলাইয়ের শুরুতে স্বস্তির বার্তা নিয়ে এল দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু। ইসরোর (ISRO) সাম্প্রতিক উপগ্রহ চিত্রে দেখা গেল, উত্তর ভারতের আকাশ জুড়ে এখন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বর্ষার মেঘ। আবহাওয়া দফতরের মতে, এটি বর্ষার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পুনরুজ্জীবন।
কেন এই পরিবর্তন?
থার্মাল ইনফ্রারেড চিত্রে দেখা যাচ্ছে, বঙ্গোপসাগর থেকে আসা সক্রিয় আবহাওয়া প্রণালীর হাত ধরে মধ্য ভারত থেকে ইন্দো-গাঙ্গেয় সমভূমি পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে ঘন মেঘের বলয়। আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগর-উভয় দিক থেকেই আসা জলীয় বাষ্পপূর্ণ বাতাস উত্তর ভারতে একত্রিত হওয়ায় বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
কোথায় কোথায় প্রভাব?
১ জুলাইয়ের মধ্যেই বর্ষা উত্তরপ্রদেশের বেশিরভাগ অংশ এবং পূর্ব হরিয়ানার কিছু অংশে প্রবেশ করেছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার দুপুরের মধ্যে দিল্লি-এনসিআর, চণ্ডীগড়, এবং পঞ্জাব ও হরিয়ানার বাকি অংশে বর্ষা পাকাপাকিভাবে জেঁকে বসবে। শুরুতে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পর তা ব্যাপক রূপ নেবে। তবে রাজস্থান এখনও বৃষ্টির মূল বলয়ের বাইরে থাকলেও, মেঘের গতিপথ পশ্চিম দিকে অগ্রসর হওয়ায় আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সেখানেও বর্ষা পৌঁছানোর জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
কৃষিতে আশার আলো
জুন মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে ৪০ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হওয়ায় কৃষিকাজে মারাত্মক প্রভাব পড়েছিল। ১৯০১ সালের পর এটি ছিল পঞ্চম শুষ্কতম জুন। খরিফ শস্য বপনে বিলম্ব এবং তীব্র তাপপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত ছিল। জুলাইয়ের প্রথম দুই সপ্তাহ এই ঘাটতি মেটানোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুটি নিম্নচাপ ব্যবস্থা বর্ষার এই প্রবাহকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা উত্তর, মধ্য ও পশ্চিম ভারতের কৃষকদের মুখে হাসি ফোটাবে।
আবহাওয়া বিশারদদের মতে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় বর্ষার এই গতি আরও ত্বরান্বিত হবে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের এই পূর্বাভাস জনজীবনে দীর্ঘ স্বস্তি নিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।


