নিরাপত্তায় বিশাল ফাটল! দিল্লী-পাঞ্জাব থেকে গ্রেফতার ১১ ISI জঙ্গি

নয়াদিল্লি: দেশের রাজধানী এবং পঞ্জাবের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এক বড় ফাটল ধরিয়ে দিয়েছে পাক জঙ্গি-গুপ্তচর চক্র ISI। (ISI Babbar Khalsa)পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এবং নিষিদ্ধ সংগঠন বাব্বর খালসা ইন্টারন্যাশনালের ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
isi-babbar-khalsa-arrests-delhi-punjab-security-breach

নয়াদিল্লি: দেশের রাজধানী এবং পঞ্জাবের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এক বড় ফাটল ধরিয়ে দিয়েছে পাক জঙ্গি-গুপ্তচর চক্র ISI। (ISI Babbar Khalsa)পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এবং নিষিদ্ধ সংগঠন বাব্বর খালসা ইন্টারন্যাশনালের (বিকেআই) যোগসাজশে চলা এই মডিউলটি দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল ধরে ফেলেছে। শুক্রবার একটি বড় অভিযানে দিল্লি ও পাঞ্জাবের বিভিন্ন জায়গা থেকে মোট ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এই চক্রটি শুধু গুপ্তচরবৃত্তি করছিল না, একই সঙ্গে অস্ত্র চোরাচালান এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার পরিকল্পনাও করছিল। পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে যে, অভিযুক্তরা পাকিস্তান-ভিত্তিক হ্যান্ডলারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখত এবং সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার করত। অভিযানে উদ্ধার হয়েছে ৯টি সৌরশক্তি-চালিত সিসিটিভি ক্যামেরা, যেগুলো সংবেদনশীল স্থানের কাছে লাগানো হয়েছিল। এছাড়া ৪টি পিস্তল এবং ২৪টি কার্তুজও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

   

আরও দেখুনঃ F ৩৫ পাওয়ার সুযোগ! নিরাপত্তা নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে আপোষ করবে মোদী?

দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই মডিউলটি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিল। অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন দিল্লির বিভিন্ন এলাকা থেকে এবং বাকিরা পাঞ্জাব থেকে ধরা পড়েছে। তাদের কাজ ছিল গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোর নজরদারি করা, অস্ত্র সরবরাহ করা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সম্ভাব্য হামলার রূপরেখা তৈরি করা। সৌরশক্তি-চালিত ক্যামেরাগুলো ব্যবহার করে তারা দূর থেকে নজর রাখত, যাতে সহজে ধরা না পড়ে।

পুলিশ বলছে, এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারত, কিন্তু সময়মতো অভিযান চালিয়ে তা রুখে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।এই ঘটনায় দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যে বিশাল ফাটল রয়েছে, তা একবার আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। পাকিস্তানের আইএসআই যে ভারতের অভ্যন্তরে এভাবে নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে পারছে, তা উদ্বেগের বিষয়। অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পুলিশ আশা করছে, এর মাধ্যমে আরও অনেক তথ্য ফাঁস হবে এবং পুরো চক্রের ছবি সামনে আসবে।

সাধারণ মানুষের মধ্যে এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকে বলছেন, “যখন রাজধানীর এত কাছে এমন চক্র সক্রিয় থাকতে পারে, তাহলে সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা কোথায়?” অন্যদিকে কেউ কেউ পুলিশের প্রশংসা করে বলছেন, “সময়মতো ধরা পড়ায় বড় বিপদ এড়ানো গেছে।” পাঞ্জাব ও দিল্লির সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। এই অভিযানের সাফল্যকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকও গুরুত্ব দিয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, আইএসআই-বিকেআইয়ের যোগসাজশে চলা এমন মডিউলগুলোকে চিহ্নিত করে ধ্বংস করা হবে।

তদন্তে আরও তথ্য উঠে আসছে যে, অভিযুক্তরা শুধু তথ্য সংগ্রহ করত না, বিদেশ থেকে অস্ত্রও আনার চেষ্টা করত। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এখন আলোচনা চলছে নিরাপত্তা বাহিনীকে আরও সতর্ক ও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে। বিশেষ করে সংবেদনশীল স্থানগুলোতে নজরদারি বাড়ানো, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা এবং গুপ্তচরবৃত্তির বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠছে।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.