পরবর্তী অভিযানের জন্য থাইল্যান্ডের ফুকেট থেকে রওনা দিল আইএনএস সুনয়না

ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজ আইএনএস সুনয়না (INS Sunayna) তার পরবর্তী অভিযানের জন্য থাইল্যান্ডের ফুকেট থেকে রওনা দিয়েছে। ইন্ডিয়ান ওশান শিপ (আইওএস) সাগর মিশনের অংশ হিসেবে জাহাজটি সেখানে তিন দিনের সফরে ছিল। এর আগে, এটি মালদ্বীপের মালেতে তার প্রথম অভিযানমূলক মোতায়েন সম্পন্ন করেছে।

ফুকেট-এ তিন দিনের যাত্রাবিরতিকালে, আইএনএস সুনয়না থাইল্যান্ডের রয়্যাল থাই নেভির সাথে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে। এরপর ১৭ এপ্রিল এটি তার পরবর্তী অভিযানিক মোতায়েনের জন্য যাত্রা করে। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল পেশাগত আলাপ-আলোচনা, যৌথ মহড়া এবং সমন্বয় কর্মসূচি। এই কার্যক্রমগুলোর লক্ষ্য ছিল দুই নৌবাহিনীর মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে উন্নততর সমন্বয় সাধন করা।

   

আলোচিত বিষয়সমূহ
বৈঠক চলাকালীন, জাহাজটির কমান্ডিং অফিসার কমান্ডার সিদ্ধার্থ চৌধুরী, থাই নৌবাহিনীর তৃতীয় চিফ অফ স্টাফ রিয়ার অ্যাডমিরাল সাত্তাপর্ন ভাজারাতের সাথে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ যৌথ অভিযান নিয়ে আলোচনা করা হয়।

এর আগে, জাহাজটি তার প্রথম অভিযানমূলক মোতায়েনের জন্য মালদ্বীপে পৌঁছায়। মালে সফরকালে, জাহাজের আন্তর্জাতিক নাবিকদল সামুদ্রিক দক্ষতা, ছোট অস্ত্রের ব্যবহার এবং ক্ষয়ক্ষতি নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে ব্যাপক প্রশিক্ষণ মহড়া পরিচালনা করে। সমুদ্রে এই প্রশিক্ষণ যৌথ প্রস্তুতি, অভিযানগত সমন্বয় এবং সামুদ্রিক সহযোগিতা জোরদার করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। নৌবাহিনীর মতে, এই মোতায়েন ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অংশীদারিত্ব জোরদার করার আরেকটি উদ্যোগ। এই সফরটি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার করার ক্ষেত্রে ভারতীয় নৌবাহিনীর অঙ্গীকারও প্রদর্শন করে।

১৬টি মিত্র দেশের নৌবাহিনীর সদস্যরা জাহাজে আরোহণ করেছেন ‘আইওএস সাগর’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে, ১৬টি মিত্র দেশের সদস্যরা এই ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজে আরোহণ করেছেন। মিত্র দেশগুলোর উপস্থিতিতে জাহাজটি দক্ষিণ-পূর্ব ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে। এটি ভারতের ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতি, ‘মহাসাগর’ রূপকল্প এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও উন্নয়নের জন্য যৌথ অগ্রগতি সাধনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা। প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী সঞ্জয় শেঠ ০২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে মুম্বই থেকে জাহাজটির যাত্রা শুরু করান।

এই উদ্যোগটি ‘এক সাগর, এক অভিযান’-এর চেতনাকে বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভারত ও তার সামুদ্রিক প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে আস্থা, সহযোগিতা এবং নিরাপত্তা আরও জোরদার করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।