যোগ দিবসে নৌসেনার অনন্য প্রদর্শন, একাগ্রতার শক্তি তুলে ধরতে জলের নিচে যোগাসন

আজ সারা দেশজুড়ে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদযাপিত হচ্ছে। ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর তিনটি শাখাই যোগব্যায়াম বিষয়ক অনুষ্ঠানের আয়োজন করলেও, বিশাখাপত্তনমে ভারতীয় নৌবাহিনী এক অভিনব প্রদর্শনীর আয়োজন…

INS Satvahana conducted a unique session of Underwater Yoga

আজ সারা দেশজুড়ে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদযাপিত হচ্ছে। ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর তিনটি শাখাই যোগব্যায়াম বিষয়ক অনুষ্ঠানের আয়োজন করলেও, বিশাখাপত্তনমে ভারতীয় নৌবাহিনী এক অভিনব প্রদর্শনীর আয়োজন করে। শনিবার আইএনএস সাতবাহন-এ (INS Satvahana) জলের নিচে যোগব্যায়ামের এক বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। ইউনিটের চল্লিশজন সদস্য এই বিশেষ আয়োজনে অংশ নেন এবং জলের নিচে বিভিন্ন যোগাসন প্রদর্শনের মাধ্যমে অসাধারণ একাগ্রতা, শ্বাস-প্রশ্বাসের ওপর নিয়ন্ত্রণ, সহনক্ষমতা ও মানসিক ভারসাম্যের পরিচয় দেন।

ভারতীয় নৌবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এই আয়োজনটি নৌবাহিনীর নিজস্ব যোগব্যায়াম বিশেষজ্ঞরা পরিচালনা করেন এবং এর নেতৃত্বে ছিলেন লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আরুশ শর্মা। এই আয়োজনটি স্বাস্থ্য ও সুস্থতার প্রসারে ভারতীয় নৌবাহিনীর প্রতিশ্রুতি এবং ফিটনেসের ক্ষেত্রে উদ্ভাবনকে গ্রহণ করার দৃঢ় সংকল্পের প্রতীক। এটি ‘আন্তর্জাতিক যোগ দিবস’-এর মূলমন্ত্র—‘এক পৃথিবী, এক স্বাস্থ্য’-এর বার্তাটিকেও আরও সুদৃঢ় করে।

   

‘মন শান্ত, শরীর বলিষ্ঠ…’
নৌবাহিনী সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ পোস্ট করেছে: ‘মনে প্রশান্তি। শরীরে শক্তি।’ ‘সেবায় নিবেদিত।’ নৌবাহিনী আরও জানিয়েছে, “আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে নৌবাহিনী ‘সুস্থ বার্ধক্যের জন্য যোগব্যায়াম’ (Yoga for Healthy Ageing) প্রতিপাদ্যটি গ্রহণ করেছে; এর মাধ্যমে একটি সুস্থ ও মিশন-প্রস্তুত বাহিনীর ভিত্তি আরও সুদৃঢ় করা হচ্ছে।”

যোগ মুদ্রার মাধ্যমে দক্ষতার প্রদর্শন
জলের নিচে আয়োজিত এই যোগব্যায়াম সেশনে অংশগ্রহণকারীরা জলের গভীরে বিভিন্ন আসন অনুশীলনের মাধ্যমে দেখিয়েছেন যে, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও কীভাবে যোগব্যায়াম শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারে। এই আয়োজনটি যোগব্যায়ামের প্রাচীন ঐতিহ্য এবং জলের নিচের চ্যালেঞ্জিং পরিবেশের এক অনন্য সংমিশ্রণ তুলে ধরেছে।

নৌবাহিনীর মতে, এই উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক দৃঢ়তা, আবেগীয় ভারসাম্য এবং কর্মতৎপরতা বা অভিযানের জন্য প্রস্তুতি বৃদ্ধি করা। অংশগ্রহণকারীরা প্রত্যক্ষভাবে অনুভব করেছেন যে, নিয়ন্ত্রিত শ্বাস-প্রশ্বাস, মননশীলতা (mindfulness) এবং শৃঙ্খলা কীভাবে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কর্মদক্ষতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।