জয়পুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সোমবার সকাল থেকেই দেখা দিয়েছে বিপত্তি। আজও ইন্ডিগো (Indigo Air) এয়ারলাইন্সের একাধিক ফ্লাইট নির্ধারিত সময়ে উড্ডয়ন করতে পারেনি। বেশ কিছু বিমানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিলম্ব এবং কিছু ফ্লাইট বাতিল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠা ক্রমশ বাড়ছে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীদের মুখে ক্লান্তি ও অনিশ্চয়তার ছাপ স্পষ্ট।
গত কয়েক দিন ধরেই জয়পুর এয়ারপোর্টে ফ্লাইট অপারেশনে নানা ধরনের গোলযোগ দেখা যাচ্ছে। কখনও টেকনিক্যাল সমস্যা, কখনও কুয়াশাজনিত ভিজিবিলিটি কমে যাওয়া, আবার কখনও এয়ার ট্রাফিক কনজেশন—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি দিন দিন জটিল হচ্ছে। কিন্তু আজকের সমস্যা যেন আগের সবকিছুকে ছাপিয়ে গেছে। যাত্রীরা সকাল থেকে অপেক্ষায় থাকলেও, ফ্লাইট কখন ছেড়ে যাবে সে বিষয়ে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বা এয়ারলাইন্স কেউই স্পষ্ট জবাব দিতে পারেনি বলে অভিযোগ।
জয়পুর থেকে কলকাতা, বেঙ্গালুরু, মুম্বই, হায়দরাবাদসহ একাধিক শহরের উদ্দেশে ইন্ডিগোর বিমানের দেরির ফলে বড়সড় প্রভাব পড়ছে যাত্রীদের যাত্রাপথে। কেউ জরুরি কাজে বেরিয়েছেন, কেউ ব্যবসায়িক মিটিংয়ে অংশ নিতে চেয়েছেন, আবার অনেকের শরীরে রয়েছে পরিচর্যার প্রয়োজন—সবমিলিয়ে দেরি তাদের জীবনযাত্রায় বড় প্রভাব ফেলছে। এমনকি কিছু যাত্রী অভিযোগ করেছেন, একাধিকবার সময় পরিবর্তনের পরেও তারা সঠিক তথ্য পাচ্ছেন না।
অনেকে আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। যাত্রীরা লিখেছেন, “আমরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছি, কিন্তু এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে সঠিক আপডেট নেই। কেউ জানাতে পারে না ফ্লাইট ছেড়ে যাবে কি না।” কিছু যাত্রী আরও জানিয়েছেন, খাবার-পানীয় বা বিশ্রামের ব্যবস্থাও যথাযথ নয়। ফলে ভোগান্তি আরও বেড়েছে। বয়স্ক যাত্রীরা এবং শিশুদের নিয়ে যাত্রা করা পরিবারগুলো বিশেষভাবে সমস্যায় পড়েছেন। ইন্ডিগো সূত্রে জানা যাচ্ছে, বেশ কিছু বিমান টেকনিক্যাল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়নি। আবার কিছু রুটে আবহাওয়ার কারণে বাড়ছে সময়। সব মিলিয়ে দিনের শেষে কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও এয়ারলাইন্সের তরফে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তালিকা প্রকাশ করা হয়নি, তবে বিমানবন্দর কর্মীদের মতে, অন্তত ৩-৪টি ফ্লাইট বাতিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বাতিল হলে বহু যাত্রীর যাত্রাপথ সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারে। সেই ক্ষেত্রে টিকিট রিফান্ড বা বিকল্প ফ্লাইট দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়েও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অনেক যাত্রীই দাবি করছেন, সমস্যা ঘটলেও ইন্ডিগো বা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের সন্তোষজনক ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
ইন্ডিগোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “বিমানগুলোর সময়সূচির এই অনিয়ম অনাকাঙ্ক্ষিত। আমরা যাত্রীদের অসুবিধা উপলব্ধি করছি এবং যত দ্রুত সম্ভব পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ করছি।”



















