ইন্ডিগোতে বড়সড় বিপর্যয়: আজ প্রায় ৩০০ ফ্লাইট বাতিল, পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক নয়

দেশের বেসরকারি বিমান পরিবহনের বৃহত্তম সংস্থা ইন্ডিগো টানা সাত দিনের ভয়াবহ অস্থিরতার মধ্যেও সোমবার স্বাভাবিক রুটিনে ফিরতে পারেনি। সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে প্রায় ৩০০টি…

IndiGo Flight Cancellation Crisis

দেশের বেসরকারি বিমান পরিবহনের বৃহত্তম সংস্থা ইন্ডিগো টানা সাত দিনের ভয়াবহ অস্থিরতার মধ্যেও সোমবার স্বাভাবিক রুটিনে ফিরতে পারেনি। সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে প্রায় ৩০০টি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় যাত্রী দুর্ভোগ আরও তীব্র হয়েছে।

কোথায় কটি বিমান বাতিল

সোমবার সকাল ৯টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত পাওয়া হিসাব অনুযায়ী—

   

রবিবার বাতিল হয়েছিল ৬৫০টিরও বেশি উড়ান, যা দুই দিন আগের ১,০০০–এর বেশি উড়ান বাতিলের তুলনায় কিছুটা কম হলেও পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। সংস্থার দাবি, এ পর্যন্ত ৬১০ কোটির বেশি টিকিট রিফান্ড যাত্রীদের প্রদান করা হয়েছে।

সংকটের কেন্দ্রবিন্দু: পাইলট সংকট ও কঠোর FDTL বিধি

ইন্ডিগোর মতে, নতুন ফ্লাইট ডিউটি টাইম লিমিটেশনস (FDTL) নিয়ম সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হওয়ায় পাইলটদের বাধ্যতামূলক বিশ্রাম সময় বেড়ে যায়। এর ফলে আকস্মিকভাবে বড় ধরনের ক্রু-সংকট দেখা দেয়, যা অতিমাত্রায় উড়ান বাতিলের দিকে ঠেলে দেয় সংস্থাটিকে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে শুরু করলে সরকার হস্তক্ষেপ করে অস্থায়ীভাবে নতুন নিয়ম স্থগিত করে। ইন্ডিগো জানিয়েছে, ১০ ডিসেম্বরের মধ্যেই তারা পূর্ণাঙ্গ স্বাভাবিকতায় ফেরার লক্ষ্য নিয়েছে।

DGCA–র কড়া নজরদারি: শো-কজের জবাব দিতে আরও সময় পেলেন শীর্ষ কর্তা

সংকট ঘনীভূত হওয়ায় সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা DGCA। রবিবার ইন্ডিগো সিইও পিটার এলবার্স এবং অ্যাকাউন্টেবল ম্যানেজার ইসিদ্রো পোরকেরাসকে দেওয়া শো-কজ নোটিসের উত্তরদানে আরও ২৪ ঘণ্টা সময় বাড়ানো হয়েছে। তারা সোমবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে জবাব জমা দেবেন।

সরকারের দৌড়ঝাঁপ: ভাড়া নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত রিফান্ড ও উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত

যাত্রীদের অসুবিধা কমাতে কেন্দ্রীয় বিমান মন্ত্রণালয় কয়েক দফা ব্যবস্থা নিয়েছে—

ব্যস্ত রুটে ভাড়া নিয়ন্ত্রণ,

বাতিল টিকিটের দ্রুত রিফান্ড নিশ্চিতকরণ,

সংকটের কারণ অনুসন্ধানে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন।

মন্ত্রী রাম মোহন নাইডু জানান, পাইলট ডিউটির নতুন নির্দেশিকা এক বছর আগেই ইন্ডিগোকে জানানো হয়েছিল; তাই এই জটিল পরিস্থিতির দায় সংস্থাকেই বহন করতে হবে।

এদিকে শনিবার পর্যন্ত যাত্রীদের ৩,০০০–এর বেশি ব্যাগেজ দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে জানায় মন্ত্রণালয়।