নিশানায় চিন-পাকিস্তান! গেম-চেঞ্জার হতে চলেছে ভারতের নিজস্ব ‘টোমাহক’ মিসাইল

নয়াদিল্লি: দীর্ঘপাল্লার লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল আঘাত হানতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অন্যতম প্রধান ভরসা ‘টোমাহক’ ক্রুজ মিসাইল। এবার সেই মহাশক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রের সমতুল্য নিজস্ব ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ তৈরি করে ফেলল…

India's own Tomahawk missile can be a game changer

নয়াদিল্লি: দীর্ঘপাল্লার লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল আঘাত হানতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অন্যতম প্রধান ভরসা ‘টোমাহক’ ক্রুজ মিসাইল। এবার সেই মহাশক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রের সমতুল্য নিজস্ব ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ তৈরি করে ফেলল ভারত। সোমবার ওড়িশা উপকূলে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘লং রেঞ্জ ল্যান্ড অ্যাটাক ক্রুজ মিসাইল’ বা এলআরএলএসিএম-এর প্রথম সফল পরীক্ষা করল প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও)। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতীয় সামরিক বাহিনীর দূরপাল্লার আক্রমণ ক্ষমতায় এই মিসাইল এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, সোমবারের ট্রায়ালে সমস্ত প্রযুক্তিগত ও কার্যকারিতার মাপকাঠিতে সসম্মানে উত্তীর্ণ হয়েছে এই মিসাইল। তবে আনুষ্ঠানিক ভাবে সশস্ত্র বাহিনীর অস্ত্রাগারে এটি যুক্ত হতে এখনও অন্তত দু’বছর সময় লাগবে। (India’s own Tomahawk missile can be a game changer)

সরকারি ভাবে এই মিসাইলের রেঞ্জ খোলসা করা না হলেও, প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে এর স্ট্রাইক রেঞ্জ ১,০০০ থেকে ১,৫০০ কিলোমিটারের মধ্যে। এই ক্রুজ মিসাইলের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল এর বহুমুখী উৎক্ষেপণ ক্ষমতা। এটি সাধারণ এবং পারমাণবিক, দু’ধরনের ওয়ারহেডই বহন করতে পারে এবং ভূমি, যুদ্ধজাহাজ বা সাবমেরিন. যেকোনো প্ল্যাটফর্ম থেকেই ফায়ার করা সম্ভব। ব্যালিস্টিক মিসাইলের মতো এটি মহাকাশ ছুঁয়ে নিচে নেমে আসে না, বরং মাটি ঘেঁষে অত্যন্ত নিচ দিয়ে উড়ে যায়। ফলে শত্রুপক্ষের অত্যাধুনিক রাডার বা এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমও একে সহজে শনাক্ত করতে পারে না। সম্পূর্ণ আত্মনির্ভর এই মিসাইলটি বেঙ্গালুরুর অ্যারোনটিক্যাল ডেভেলপমেন্ট এস্টাব্লিশমেন্টের নেতৃত্বে ডিআরডিও-র একাধিক ল্যাব এবং দেশীয় সংস্থার যৌথ প্রচেষ্টায় তৈরি হয়েছে, যা মূলত ভারতের ‘নির্ভয়’ মিসাইল প্রোগ্রামের উন্নত এবং আধুনিক সংস্করণ।

   

সাম্প্রতিক রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত বা মার্কিন-ইরান যুদ্ধে দূরপাল্লার স্ট্যান্ড-অফ অস্ত্রের গুরুত্ব গোটা বিশ্ব টের পেয়েছে। অত্যাধুনিক গাইডেন্স সিস্টেম থাকায় মার্কিন টোমাহকের মতোই ভারতের এই মিসাইল মাঝপথে দিক পরিবর্তন করে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। সহজ কথায়, এই মিসাইল পুরোপুরি ভারতীয় সেনার হাতে এলে, মুম্বইয়ের নৌঘাঁটি থেকে ছুঁড়েই পাকিস্তানের ইসলামাবাদের কাছে পিনপয়েন্ট নিশানায় হামলা চালানো সম্ভব হবে। সামরিক দিক থেকে বর্ধিত পাল্লার এই মিসাইল ভারতকে গোটা এশিয়া মহাদেশে এক বিশাল কৌশলগত সুবিধা এনে দেবে। সীমান্ত এলাকায় এটি মোতায়েন করা হলে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহর ও সেনাঘাঁটি সরাসরি ভারতের নিশানায় চলে আসবে। পশ্চিম সীমান্তে এটি মোতায়েন করা হলে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ, সেনা সদর দফতর রাওয়ালপিন্ডি, লাহোর, ফয়সালাবাদ এবং প্রধান অর্থনৈতিক ও নৌঘাঁটি করাচি সরাসরি এর নিশানায় থাকবে। অন্যদিকে, উত্তর বা পূর্ব সেক্টরে এটি মোতায়েন করা হলে চিনের সামরিক পরিকাঠামোর কেন্দ্র লাসা, প্রধান সামরিক হাব চেংডু, জিনজিয়াং প্রদেশের উরুমকি এবং কুনমিং-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলিও ভারতের স্ট্রাইক রেঞ্জের আওতায় চলে আসবে।

প্রসঙ্গক্রমে মার্কিন টোমাহক মিসাইলের কথা বলতে গেলে, ১৯৮৩ সালে এটি প্রথম মার্কিন নৌবাহিনীতে যুক্ত হয়। ১৯৯১ সালে সাদ্দাম হোসেনের কুয়েত আক্রমণের সময় ‘অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম’-এ এটি প্রথম বিশ্বজুড়ে নজর কাড়ে। সম্প্রতি ইরানেও এর বিধ্বংসী ক্ষমতা দেখা গিয়েছে। ১২৫০ থেকে ২৫০০ কিমি পাল্লার এই মিসাইলগুলি ঘণ্টায় ৮৮০ কিলোমিটার বেগে ছুটতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিটি টোমাহক মিসাইলের দাম প্রায় ১১.৩০ কোটি টাকা। আমেরিকা ছাড়াও বর্তমানে ব্রিটেন, জাপান, অস্ট্রেলিয়া এবং নেদারল্যান্ডসের হাতে এই অত্যাধুনিক মিসাইল রয়েছে।