স্বদেশি ড্রোন সংগ্রহে ৫০০০ কোটি টাকার অর্ডার সেনাবাহিনীর

নয়াদিল্লি, ১৫ ডিসেম্বর: ভারতীয় সেনাবাহিনী (Army Orders Indigenous Drones)আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের গুরুত্ব উপলব্ধি করে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছে। অপারেশন সিন্দুরের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সেনা এবার স্বদেশি ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
indian-army-orders-indigenous-drones-5000-crore

নয়াদিল্লি, ১৫ ডিসেম্বর: ভারতীয় সেনাবাহিনী (Army Orders Indigenous Drones)আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের গুরুত্ব উপলব্ধি করে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছে। অপারেশন সিন্দুরের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সেনা এবার স্বদেশি ড্রোনের জন্য ৫০০০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের অর্ডার দিচ্ছে।

এই ড্রোনগুলো বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে শত্রুর জ্যামিং ও স্পুফিংয়ের মতো ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারের হাত থেকে রক্ষা পায়। কামিকাজে স্ট্রাইক, লং-রেঞ্জ প্রিসিশন অ্যাটাক এবং রেকনেসান্সের মতো কাজে ব্যবহার হবে এই ড্রোনগুলো, যা ভারতের প্রতিরক্ষায় স্বনির্ভরতাকে নতুন উচ্চতায় তুলে ধরবে।

   

রাজ্যে ১০০ দিনের কাজে ফর্মুলা বদল কেন্দ্রের

অপারেশন সিন্দুরের সময় শত্রুপক্ষের তীব্র ইলেকট্রনিক হামলায় অনেক ড্রোন নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল। জ্যামিংয়ে সিগন্যাল বন্ধ হয়ে যাওয়া বা স্পুফিংয়ে ভুয়ো জিপিএস সিগন্যাল দিয়ে ড্রোনকে বিভ্রান্ত করা—এসব থেকে শিক্ষা নিয়ে সেনা এবার কঠোর পরীক্ষা করে ড্রোন নির্বাচন করেছে। তিন স্তরের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রথমে চিনা উপাদানের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

তারপর উচ্চ-তীব্রতার ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিমুলেশনে ড্রোনগুলোকে পরীক্ষা করা হয়েছে। লঞ্চ জোন থেকেই ভারী জ্যামিংয়ের মধ্যে ড্রোনের স্থিতিশীলতা যাচাই করা হয়। শেষ স্তরে উচ্চ-উচ্চতার এলাকায় পারফরম্যান্স দেখা হয়েছে। এই কঠোর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ড্রোনগুলোই এখন সেনার অস্ত্রভাণ্ডারে যোগ হচ্ছে।এই অর্ডারগুলো দেওয়া হচ্ছে দেশীয় কোম্পানিগুলোকে।

পাবলিক সেক্টরের মিউনিশন্স ইন্ডিয়া লিমিটেড লুটারিং মিউনিশনের জন্য প্রায় ৫০০ কোটি টাকার অর্ডার পেয়েছে, যা তাদের এই ক্ষেত্রে প্রথম বড় সাফল্য। প্রাইভেট সেক্টরে নিউস্পেস রিসার্চ অ্যান্ড টেকনোলজিস এবং এসএমপিপি প্রাইভেট লিমিটেডের জোট সার্ভেইল্যান্স এবং কামিকাজে স্ট্রাইক ড্রোনের জন্য প্রায় ৭২৫ কোটি টাকার অর্ডার বাগিয়ে নিয়েছে।

এছাড়া আইডিয়াফোর্জ সার্ভেইল্যান্স ড্রোন এবং জেএসডব্লিউ ভার্টিক্যাল টেকঅফ অ্যান্ড ল্যান্ডিং সিস্টেমের জন্য অর্ডার পেয়েছে। এই সব অর্ডার জরুরি ক্রয় ক্ষমতার অধীনে দেওয়া হচ্ছে, যাতে দ্রুত সেনার ক্ষমতা বাড়ানো যায়।এই ড্রোনগুলোর বৈশিষ্ট্য অত্যন্ত উন্নত। শর্ট-রেঞ্জ কামিকাজে ড্রোন শত্রুর টার্গেটে সরাসরি ধাক্কা মেরে ধ্বংস করবে, লং-রেঞ্জ ড্রোন প্রিসিশন মিউনিশন ডেলিভারি করবে এবং রেকনেসান্স ড্রোন শত্রুর গতিবিধি নজরে রাখবে।

জিপিএস-ডিনায়েড পরিবেশেও কাজ করার ক্ষমতা থাকায় এগুলো উচ্চ-উচ্চতার সীমান্ত এলাকায় বিশেষ কার্যকর হবে। ‘আত্মনির্ভর ভারত’ অভিযানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই ড্রোনগুলোতে দেশীয় উপাদানের পরিমাণ সর্বোচ্চ রাখা হয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ ভারতীয় সেনাকে ড্রোন-কেন্দ্রিক যুদ্ধে এগিয়ে রাখবে। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সংঘর্ষগুলোতে ড্রোনের ভূমিকা দেখে ভারত দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে।

এই অর্ডার শুধু সেনার ক্ষমতা বাড়াবে না, দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পকেও উজ্জীবিত করবে। নতুন কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং রপ্তানির সম্ভাবনা তৈরি হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র এই সাফল্য ভারতকে বিশ্বের প্রতিরক্ষা মানচিত্রে নতুন উচ্চতায় তুলে ধরছে। আগামী দিনে ভারতীয় সেনার ড্রোন বাহিনী শত্রুর জন্য অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠবে—এটাই এখন স্পষ্ট।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google