নয়াদিল্লি: অরুণাচল প্রদেশে (Arunachal Pradesh) চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (PLA) অনুপ্রবেশ করে নতুন শিবির গড়েছে বলে সম্প্রতি প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিল ভারতীয় সেনাবাহিনী (Indian Army,)। সোমবার এক বিবৃতিতে সেনার পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই ধরনের রিপোর্ট “ভুল এবং কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই।”
ভারতীয় সেনার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “অরুণাচল প্রদেশে সম্প্রতি চিনা পিএলএ-র অনুপ্রবেশ এবং শিবির স্থাপনের অভিযোগ নিয়ে কিছু সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর আমাদের নজরে এসেছে। এই প্রতিবেদনগুলি সম্পূর্ণ ভুল এবং এর কোনও ভিত্তি নেই।”
Also Read | ২ জুলাই মন্ত্রিসভায় পেশ হবে UCC বিল! ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
সম্প্রতি কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল, গত ছয় বছরে অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবনসিরি জেলায় চিনা সেনা একাধিক এলাকায় অনুপ্রবেশ করেছে। এই অভিযোগ তুলেছিল স্থানীয় নাহ (Nah) জনজাতির প্রতিনিধিরা। তাঁদের দাবি ছিল, কথিত অনুপ্রবেশের ফলে ঐতিহ্যগত চরাঞ্চল ও শিকার করার এলাকা ব্যবহার করতে সমস্যায় পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
নাহ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির (NWS) সভাপতি কেরু চাডের দাবি করেন, ২০২০ সাল থেকেই চিনা সেনা তাঁদের পূর্বপুরুষদের জমি ও শিকারের এলাকা দখল করে রেখেছে। যদিও তিনি একইসঙ্গে ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রতি আস্থা প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্ত রক্ষায় ভারতীয় সেনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
Also Read | নিশানায় শিলিগুড়ি করিডোর? বাংলাদেশে চিনের এন্ট্রি ভারতের জন্য কতটা বিপজ্জনক?
গালওয়ান সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি
২০২০ সালে গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চিনা সেনার সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় জওয়ান শহিদ হন। সেই সংঘর্ষে চিনেরও বহু সেনা নিহত হলেও বেজিং সরকার এখনও পর্যন্ত সরকারি সংখ্যা প্রকাশ করেনি।
এরপর থেকে দুই দেশের মধ্যে একাধিক দফায় সামরিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ে বৈঠক হয়েছে। সোমবার বিদায়ী সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী জানান, সীমান্তে ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে ভারত ও চিনের সেনার মধ্যে ১,১০০-রও বেশি গ্রাউন্ড-লেভেল বৈঠক হয়েছে।
তিনি বলেন, লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (LAC)-এ বর্তমানে পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, শান্তি ও সংলাপের পক্ষে ভারত থাকলেও দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত সুরক্ষার প্রশ্নে ভারতীয় সেনাবাহিনী সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত।
জেনারেল দ্বিবেদী বলেন, “সামরিক পর্যায়ে ধারাবাহিক আলোচনার ফলে সীমান্তে শান্তি বজায় রাখতে সাহায্য হয়েছে। তবে আমাদের নীতি ‘শক্তির মাধ্যমে শান্তি’। এলএসি-তে ভারতীয় সেনার মোতায়েন দৃঢ়, বিশ্বাসযোগ্য ও সর্বদা দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সক্ষম থাকবে।”


