লোকসভা ভোটের আগেই হারবে ‘INDIA’, মণিপুর ইস্যুতে ‘ঝুঁকেগা মোদী’ বলছেন বিরোধীরা

মণিপুর হিংসা নিয়ে সংসদে নীরব থাকা মোদীকে এবার বলতেই হবে। কংগ্রেস ও বিআরএস দলের আনা অনাস্থা প্রস্তাব গৃহীত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে আর সংসদ এড়ানোর কোনও উপায় নেই। এখানেই নৈতিক জয় দেখছে বিরোধীদের ‘INDIA’ জোট। আর সাংসদ সংখ্যার নিরিখে লোকসভা ভোটের আগে এই জোটের প্রথম পরাজয় নিশ্চিত। বিরোধীদের বক্তব্য ভোটে হারলেও মোদীকে সংসদে টেনে এনে মণিপুর ইস্যুতে বলতে বাধ্য করানো গেছে।

বিজেপি শাসিত মণিপুরে দুই নগ্ন মহিলার একটি ভাইরাল ভিডিও নিয়ে ক্ষোভের মধ্যে ২০ জুলাই সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরু হয়েছিল। অধিবেশনে মণিপুর ইস্যুতে বিরোধী দলগুলির দ্বারা বাধা এবং তীব্র প্রতিবাদ দেখা গেছে কারণ তারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিবৃতি এবং মণিপুর ইস্যু নিয়ে আলোচনার দাবি জানিয়েছে।

   

আরও পড়ুন: INDIA Alliance: বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়ান মুজাহিদিন’, জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে তুলনা মোদীর

যদিও বিজেপি শাসিত মণিপুরে জাতিগত হিংসা ও মহিলাদের নগ্ন করে হাঁটানোর ভিডিও নিয়ে সংসদ অধিবেশনের আগে বিবৃতি দেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। তবে তাঁকে সংসদের অধিবেশনে বলতে হবে এমন দাবিতে বিরোধীরা অনড়। এদিকে লোকসভা ভোট সামলে রেখে বিরোধীদের জোট ইন্ডিয়া নামকে কটাক্ষ করে জঙ্গি সংগঠন ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনের সাথে তুলনা করেন মোদী। এর জেরে বিতর্ক প্রবল। সেই ইন্ডিয়া জোট এবার অনাস্থা ভোটাভুটিতে মোদীকে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করতে মু়খিয়ে আছে।

মণিপুর হিংসা নিয়ে মোদীকে সংসদে বিবৃতি দিতে হবে এমন কৌশলে সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব দিয়েছে কংগ্রেস। ৫০ জন সাংসদের সমর্থন মিলে যাওয়ায় অধ্যক্ষ ভোটাভুটির নির্দেশ দিয়েছেন। তার আগে সংসদে নিয়মাফিক আলোচনা হবে। প্রধানমন্ত্রীকে মণিপুর হিংসা নিয়ে প্রশ্নের জবাব দিতে হবে বলে বিরোধীরা বলছেন। তারা বলছেন, এবার আর মোদী কোনওভাবেই মণিপুর ইস্যু নিয়ে সংসদে বিবৃতি এড়াতে পারবেন না।

আরও পড়ুন: INDIA Alliance: আলোচনা না করেই নাম কেন? জোটের ইন্ডিয়া নামে ঘোর আপত্তি নীতীশের

সংসদের বর্ষা অধিবেশনের প্রথম দিন থেকেই বিরোধী দলগুলি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর চলমান মণিপুর সহিংসতা সম্পর্কে কথা বলার দাবি জানিয়ে আসছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মঙ্গলবার মণিপুরের পরিস্থিতি নিয়ে সংসদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কথা বলার দাবি করা বিরোধী নেতাদের নিন্দা করেছেন।

“মণিপুর! মণিপুর!” স্লোগানের মধ্যে, অমিত শাহ বলেন, “যারা এখন স্লোগান দিচ্ছে, তারা না সরকারের প্রতি আগ্রহী, না সহযোগিতায়। তারা দলিত বা মহিলাদের কল্যাণে আগ্রহী নয়… আমি আবার বলতে চাই। আমি আজ উভয় কক্ষের নেতাদের কাছে চিঠি লিখেছি যে আমি যেকোনো ধরনের দীর্ঘ আলোচনার জন্য প্রস্তুত।”

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন