
নয়াদিল্লি: ভারত আমেরিকাকে কৃষি খাতে স্পষ্ট ‘না’ বলে দিল (agriculture)। দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস (TNIE)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, নয়াদিল্লি কৃষি এবং দুগ্ধ খাতকে এমনকি আংশিকভাবেও খুলে দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে, যার ফলে ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা একেবারে আটকে গেছে। এই অবস্থানকে সরকারি সূত্রে ‘নন-নেগোশিয়েবল রেড লাইন’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে।আমেরিকা দীর্ঘদিন ধরে ভারতের বাজারে তাদের কৃষিজাত পণ্য এবং দুগ্ধজাত দ্রব্যের প্রবেশাধিকার চেয়ে আসছে।
ওয়াশিংটনের দাবি, কয়েকটি সংবেদনশীল খাতে আংশিক খোলামেলা হলে দু’দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে। কিন্তু ভারতীয় কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, কৃষি ও দুগ্ধ খাতে কোনো ছাড় দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ, এই খাতগুলো লক্ষ লক্ষ কৃষক ও দুগ্ধ উৎপাদকের জীবিকার সঙ্গে জড়িত। আমেরিকার সস্তা, ভর্তুকিপ্রাপ্ত কৃষিজাত পণ্য এবং দুগ্ধজাত দ্রব্য ভারতীয় বাজারে ঢুকে পড়লে স্থানীয় কৃষকদের আয় কমে যাবে, গ্রামীণ অর্থনীতি ধ্বংসের মুখে পড়বে।
সপ্তাহের প্রথম দিনেই মমতাকে সুপ্রিম ধাক্কা ইডির
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, আলোচনায় অনেক বিষয়ে প্রায় সমঝোতা হয়ে গিয়েছিল। দু’দেশ ‘ক্লোজ টু ক্লোজার’ অবস্থায় ছিল। কিন্তু আমেরিকা যখন কৃষি এবং দুগ্ধ খাতে আংশিক খোলার দাবি তুলল, তখনই ভারত কঠোর অবস্থান নেয়। একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেন, “আমরা ভালো চুক্তি চাই, কিন্তু কৃষকদের স্বার্থের সঙ্গে আপস করা যাবে না। এটা আমাদের লাল রেখা।” প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বারবার বলেছেন যে, কৃষক, মৎস্যজীবী এবং গো-পালকদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা সরকারের অঙ্গীকার।
স্বাধীনতা দিবসের ভাষণেও তিনি এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।এই ঘটনা ভারত-মার্কিন সম্পর্কের এক নতুন পরীক্ষা। আমেরিকার পক্ষ থেকে বাণিজ্য প্রতিনিধি এবং কমার্স সেক্রেটারি হাওয়ার্ড লুটনিকের মন্তব্যে দেখা গেছে যে, তারা ভারতকে ‘টাফ নাট টু ক্র্যাক’ বলে বর্ণনা করছেন। লুটনিক বলেছেন, ভারতের প্রস্তাবগুলো এখনও পর্যন্ত সেরা, কিন্তু কৃষি খাতে প্রতিরোধ অটুট।
অন্যদিকে, ভারতের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে, চুক্তি হবে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে, কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করা হবে না।এই অচলাবস্থার মধ্যে কৃষক সংগঠনগুলোও সরব হয়েছে। থালাভাদি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের মতো সংগঠন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের কাছে আবেদন জানিয়েছে যে, কৃষি এবং দুগ্ধ খাতকে যেকোনো বাণিজ্য চুক্তির বাইরে রাখা হোক। তারা বলছে, আমেরিকার ভর্তুকিপ্রাপ্ত গম, সয়াবিন, ক্যানোলা, দুধ এবং দুগ্ধজাত পণ্য ভারতীয় বাজারে ঢুকলে স্থানীয় উৎপাদকদের দাম পড়ে যাবে, গ্রামীণ অর্থনীতি বিপর্যস্ত হবে।










