
কলকাতা: সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court)একটি নতুন মোড় নিয়েছে ইডি-র অভিযান নিয়ে বিতর্ক। এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেট (ED) তিন আধিকারিক, যাদের মধ্যে অন্যতম প্রশান্ত চান্দিল, সরাসরি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।
এই মামলার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ ইডি-র তদন্তে হস্তক্ষেপ এবং প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা।ঘটনার সূত্রপাত গত কয়েকদিন আগে। ইডি কলকাতায় I-PAC-এর অফিস এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে একযোগে তল্লাশি অভিযান চালায়।
আকাশে স্বপ্নভঙ্গ! নিখোঁজ ইসরোর পিএসএলভি-সি৬২, কক্ষপথ হারাল ১৬টি উপগ্রহ
এই অভিযানের সঙ্গে যুক্ত একটি কয়লা পাচার সংক্রান্ত মানি লন্ডারিং মামলা। ইডি-র দাবি, তল্লাশির সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং তাঁর সঙ্গে ছিলেন পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। অভিযোগ উঠেছে, তিনি জোর করে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফিজিক্যাল ডকুমেন্টস এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে চলে যান। একটি সবুজ ফাইলের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে নাকি নামের তালিকা এবং অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য ছিল।
ইডি-র মতে, এতে তাদের তদন্তের স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে।এই ঘটনার পর থেকেই রাজ্য-কেন্দ্রের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন হিসেবে দলের সংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়ে গিয়েছেন। তিনি বলেন, এই অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল ভোটকৌশল চুরি করা এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা। অন্যদিকে, ইডি-র অভিযোগ সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্য পুলিশের সহায়তায় প্রমাণ ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে, যা কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার কাজে বাধা সৃষ্টি করেছে।
এরপরই কলকাতা হাইকোর্টে ইডি আবেদন করে, কিন্তু সেখানে শুনানি স্থগিত হয়ে যায়। এর মধ্যে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে ক্যাভিয়েট দাখিল করে, যাতে কোনো একতরফা আদেশ না হয়। কিন্তু ইডি-র তিন আধিকারিক প্রশান্ত চান্দিল সহ আরও দুজন আলাদাভাবে সুপ্রিম কোর্টে জোরালো মামলা দায়ের করেন।
একটি মামলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি পক্ষ করা হয়েছে। অভিযোগ, প্রশান্ত চান্দিলের হাত থেকে ফাইল কেড়ে নেওয়া হয়েছে, যা তদন্তের অংশ ছিল। তাঁরা দাবি করেছেন, এমন হস্তক্ষেপের ফলে তাদের কাজ করার অধিকার খর্ব হয়েছে এবং স্বাধীন তদন্ত অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
এই মামলা এখন রাজনৈতিক মহলে তুমুল আলোড়ন তুলেছে। বিজেপি-র তরফে বলা হচ্ছে, এটা মমতা সরকারের অসহযোগিতা এবং কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ভয় দেখানোর প্রমাণ। অন্যদিকে, তৃণমূলের নেতারা দাবি করছেন, এটা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ এবং ইডি-কে ব্যবহার করে বিরোধীদের দমন করার চেষ্টা। প্রতীক জৈনের সংস্থা I-PAC তৃণমূলের নির্বাচনী কৌশল গড়ে তোলার কাজ করে আসছে, তাই এই অভিযানকে অনেকেই রাজনৈতিক বলে মনে করছেন।










