আত্মনির্ভর ভারতের কর্মসংস্থান বাড়াতে আমিরাতের কাছে ব্রহ্মস বিক্রির আলোচনা মোদীসরকারের

নয়াদিল্লি: ভারতীয় প্রতিরক্ষা রফতানির ক্ষেত্রে একটি সম্ভাবনাময় বড় অগ্রগতি। (BrahMos)রয়টার্সের খবর অনুসারে, ভারত সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) কাছে বিখ্যাত ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল বিক্রির জন্য…

india-uae-brahmos-missile-export-deal-defence-exports-atmanirbhar-bharat

নয়াদিল্লি: ভারতীয় প্রতিরক্ষা রফতানির ক্ষেত্রে একটি সম্ভাবনাময় বড় অগ্রগতি। (BrahMos)রয়টার্সের খবর অনুসারে, ভারত সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) কাছে বিখ্যাত ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল বিক্রির জন্য প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছে। এই চুক্তি হলে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিশালী দেশগুলির মধ্যে ভারতের প্রতিরক্ষা রফতানি আরও বিস্তৃত হবে।

ব্রহ্মোস ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগতির সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল। মাটি থেকে মাটি, মাটি থেকে জাহাজ এবং জাহাজ থেকে জাহাজ সব ধরনের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম এই মিসাইল মাচ ৩ গতিতে উড়তে পারে। এর নির্ভুলতা ও ধ্বংসক্ষমতা বিশ্বব্যাপী সামরিক বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টি কেড়েছে।

   

আরও দেখুনঃ অভিশাপ কাটিয়ে ৩৬ বছর পর পূর্বপুরুষের ভিটেতে ফিরলেন বৃদ্ধা কাশ্মীরি পণ্ডিত

বর্তমানে ভারতীয় নৌবাহিনী, সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীতে এই মিসাইল সক্রিয়ভাবে মোতায়েন রয়েছে।সূত্র জানিয়েছে, ইউএইর সঙ্গে আলোচনা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তবে দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই আলোচনাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত পশ্চিম এশিয়ার অন্যতম আধুনিক ও শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর অধিকারী।

তাদের সামরিক আধুনিকীকরণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে উন্নত প্রযুক্তির মিসাইল ব্যবস্থা অর্জনের আগ্রহ দীর্ঘদিনের।ভারতের জন্য এই সম্ভাব্য চুক্তি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। গত কয়েক বছরে ভারত প্রতিরক্ষা রফতানিতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রতিরক্ষা রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ বিলিয়ন ডলার।

ব্রহ্মোস রফতানি হলে এই লক্ষ্য পূরণে বড় ধাক্কা আসবে। ইতিমধ্যে ফিলিপাইন ব্রহ্মোস কিনেছে এবং ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনামসহ কয়েকটি দেশ আগ্রহ দেখিয়েছে।প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউএইর সঙ্গে ব্রহ্মোস চুক্তি হলে শুধু বাণিজ্যিক সাফল্য নয়, ভারতের কৌশলগত অবস্থানও মজবুত হবে।

উপসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের প্রভাব বাড়বে এবং চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের বিপরীতে একটি ভারসাম্য তৈরি হতে পারে। ইউএই ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা সহযোগিতা দ্রুত বাড়ছে।তবে চুক্তি সম্পন্ন হতে এখনও সময় লাগবে। আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন, রাশিয়ার সম্মতি ও অন্যান্য কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

রয়টার্স জানিয়েছে, উভয়পক্ষই এখনও বিস্তারিত আলোচনায় যায়নি, কিন্তু প্রাথমিক পর্যায়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এখনও এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। তবে সরকারি সূত্রগুলো বলছে, ‘আত্মনির্ভর ভারত’ অভিযানের অংশ হিসেবে উন্নত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রফতানি বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। ব্রহ্মোসের মতো অস্ত্র রফতানি হলে দেশের প্রতিরক্ষা শিল্প আরও শক্তিশালী হবে এবং কর্মসংস্থানও বাড়বে।