মার্কিন রাষ্ট্রপতি-মেয়রের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান ভারতের

india-slams-new-york-mayor-mamdani-trade-remarks

নয়াদিল্লি: আন্তর্জাতিক কূটনীতির ময়দানে ভারতের দৃঢ় অবস্থান আবারও প্রমাণিত হল (Mamdani)। একদিকে নিউ ইয়র্কের নতুন মেয়র জোহরান মামদানির উমর খালিদকে লেখা চিঠিকে কড়া ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছে নয়াদিল্লি, অন্যদিকে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বাণিজ্য সম্পর্কিত মন্তব্যকেও ‘ভ্রান্ত ও অসংগত’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে ভারত সরকার।

এই দুটি ঘটনাই ভারতের বৈদেশিক নীতির নতুন আত্মবিশ্বাসকে তুলে ধরছে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বরদাস্ত নয়, আর বাণিজ্যিক সম্পর্ক হবে সমতা ও পারস্পরিক লাভের ভিত্তিতে।প্রথমে উমর খালিদের প্রসঙ্গ। নিউ ইয়র্ক সিটির নতুন মেয়র জোহরান মামদানি, যিনি ভারতীয় বংশোদ্ভূত এবং প্রথম মুসলিম মেয়র, সম্প্রতি জেলে বন্দি অ্যাকটিভিস্ট উমর খালিদকে একটি হাতে লেখা চিঠি পাঠিয়েছেন।

   

আসছে INS বিক্রান্তের ভাই! বিক্রমাদিত্যের অবসরের আগেই কমিশন হবে নতুন বিমানবাহী রণতরী

চিঠিতে তিনি লিখেছেন, “আমরা সবাই তোমার কথা ভাবছি।” এছাড়া কয়েকজন আমেরিকান কংগ্রেসম্যানও খালিদের মামলায় হস্তক্ষেপ করে চিঠি লিখেছেন। উমর খালিদ ২০২০ দিল্লি দাঙ্গার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে জেলে রয়েছেন এবং মামলা আদালতে বিচারাধীন। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, কোনও বিদেশি জনপ্রতিনিধির পক্ষে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিচার প্রক্রিয়ায় মন্তব্য করা অনভিপ্রেত।

এটি আইনের শাসন এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রতি অসম্মান। বিজেপি এই চিঠিকে ‘ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ’ বলে কড়া সমালোচনা করেছে। বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য, জনপ্রতিনিধিদের উচিত বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান দেখানো, কোনও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নয়। এই অবস্থান ভারতের সার্বভৌমত্বের প্রতি অটুট প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করে।

এই প্রেক্ষাপটে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা এসেছে। আমেরিকার কমার্স সেক্রেটারি হাওয়ার্ড লুটনিক সম্প্রতি দাবি করেছেন যে, ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার কারণ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ফোন না করা। এই মন্তব্যকে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক ‘অসংগত ও ভ্রান্ত চিত্রণ’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, ২০২৫ সালে মোদী এবং ট্রাম্প আটবার ফোনে কথা বলেছেন। দুই দেশের মধ্যে একাধিক দফা আলোচনা হয়েছে এবং বারবার চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছানো গিয়েছে। ভারতের বক্তব্য, দুই দেশের অর্থনীতি প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং পরিপূরক (complementary economies)। ভারত পারস্পরিক লাভজনক চুক্তিতে বিশ্বাসী, কোনও একতরফা শর্ত মানবে না।

এই দুটি ঘটনাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সেই বিখ্যাত বক্তব্যকে স্মরণ করিয়ে দেয়—“India will talk eye-to-eye.” অর্থাৎ আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারত সমতার ভিত্তিতে কথা বলবে, মাথা নিচু করে নয়। বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, এই নীতি ছোট দেশের জন্য নয়, আমেরিকার মতো শক্তিশালী দেশের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। “US is no exception”—এই বার্তা ভারতের কূটনৈতিক আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন