ভারতে প্রথমবারের মতো ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করবে বেসরকারি কোম্পানিগুলো

Missile Manufacturing: ভারত তার প্রতিরক্ষা নীতিতে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে চলেছে। কেন্দ্রীয় সরকার শীঘ্রই ভারতের বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়ন ও উৎপাদনে অংশগ্রহণের অনুমতি দিতে পারে।…

Brahmos

Missile Manufacturing: ভারত তার প্রতিরক্ষা নীতিতে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে চলেছে। কেন্দ্রীয় সরকার শীঘ্রই ভারতের বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়ন ও উৎপাদনে অংশগ্রহণের অনুমতি দিতে পারে। এতদিন পর্যন্ত এই খাতটি মূলত সরকারি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।

সরকার এমন এক সময়ে এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে যখন ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর মাধ্যমে সমগ্র বিশ্ব ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা প্রত্যক্ষ করেছে। একই সঙ্গে, ভারতে তৈরি ক্ষেপণাস্ত্রের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে; বিশেষ করে, ডিআরডিও (DRDO)-র তৈরি ‘অস্ত্র’ (Astra) ক্ষেপণাস্ত্রের প্রতি ইন্দোনেশিয়া আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

‘অস্ত্র মার্ক-২’ উৎপাদনের জন্য প্রস্তাব আহ্বান করা হতে পারে
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক শীঘ্রই ‘অস্ত্র মার্ক-২’ বিয়ন্ড ভিজ্যুয়াল রেঞ্জ (BVR) এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল বা আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের জন্য বেসরকারি কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে প্রস্তাব আহ্বান করতে পারে। দেশের বেশ কয়েকটি বড় বেসরকারি কোম্পানি এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

‘অস্ত্র মার্ক-২’ (Astra Mark-2) ক্ষেপণাস্ত্রটি ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (DRDO) কর্তৃক তৈরি করা হয়েছে। জানা গেছে যে, এর আঘাত হানার পাল্লা বা রেঞ্জ প্রায় ১৮০ থেকে ২০০ কিলোমিটার। ভারতীয় বিমান বাহিনীর বেশ কিছু যুদ্ধবিমান—যেমন তেজস মার্ক-১এ (Tejas Mark-1A), মিগ-২৯ (MiG-29), সুখোই-৩০ এমকেআই (Sukhoi-30 MKI) এবং রাফাল মেরিন (Rafale Marine)-এ এই ক্ষেপণাস্ত্রটি মোতায়েন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

চাহিদা বৃদ্ধির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী এবং বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর পক্ষ থেকে মিসাইলের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। বিদ্যমান উৎপাদন সক্ষমতা দিয়ে এই ক্রমবর্ধমান চাহিদা পুরোপুরি মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। তাই বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণের মাধ্যমে উৎপাদন ত্বরান্বিত করা এবং রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি করাই এর লক্ষ্য।

‘প্রলয়’ (Pralay) ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিটিও বেসরকারি খাতের জন্য উন্মুক্ত করা হতে পারে

‘অস্ত্র’ (Astra) ক্ষেপণাস্ত্রের পর, সরকার ‘প্রলয়’ ট্যাকটিক্যাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়ন ও উৎপাদনের ক্ষেত্রেও বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করছে। প্রায় ৫০০ কিলোমিটার পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্রটি শব্দের গতির চেয়ে কয়েক গুণ বেশি গতিতে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। ভারতের ক্রমবর্ধমান রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর বিশেষ গুরুত্ব
সাম্প্রতিক সামরিক অভিযান এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের পরিপ্রেক্ষিতে, ভারত তার দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য হলো দেশের আক্রমণাত্মক ও রক্ষণাত্মক—উভয় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দ্রুত বৃদ্ধি করা।