সিঁদুরের পর ‘অপারেশন সাগরবন্ধু’, পড়শি দেশে সেনার নয়া অভিযান

‘অপারেশন সিঁদুর’-এ সাফল্যের পর ফের আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা অভিযানে মাঠে নামল ভারত। এইবার মঞ্চ শ্রীলঙ্কা। ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত কলম্বোসহ দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক জেলায় মৃত্যু সংখ্যা ১৫০ ছাড়িয়ে…

india-launches-operation-sagarbandhu-relief-mission-sri-lanka-cyclone

‘অপারেশন সিঁদুর’-এ সাফল্যের পর ফের আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা অভিযানে মাঠে নামল ভারত। এইবার মঞ্চ শ্রীলঙ্কা। ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত কলম্বোসহ দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক জেলায় মৃত্যু সংখ্যা ১৫০ ছাড়িয়ে যাওয়ায় এবং ৪৪,০০০-এরও বেশি মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ায় ভারত দ্রুত শুরু করল ‘অপারেশন সাগরবন্ধু’ (Operation Sagarbandhu)। নামেই যেমন বোঝা যায়, সমুদ্র–ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশীর দুঃসময়ে বন্ধুর মতো সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে ভারত।

পোস্টটিতে বর্ণিত তথ্য অনুযায়ী, গত রাতেই হিন্দন এয়ারবেস থেকে C-130J ও IL-76 পরিবহন বিমান উড়ে যায়। সঙ্গে পাঠানো হয়েছে

   
  • ২১ টন ত্রাণসামগ্রী,
  • ৮০ জনের বেশি এনডিআরএফ কর্মী,
  • ৮ টন সুরক্ষা ও উদ্ধার সরঞ্জাম।

রাতের অন্ধকারে আলোকসজ্জায় ভরে ওঠে এয়ারবেসের রানওয়ে—একদিকে সেনা ও এয়ারফোর্স কর্মীরা পরপর ত্রাণসামগ্রী বোঝাই করছেন, অন্যদিকে NDRF টিম তাদের কমলা রঙের উদ্ধার পোশাকে প্রস্তুতি নিচ্ছেন মিশনের। C-130J–এর বিশাল কার্গো ডোর খুলে রাখা, তার ভিতরে স্তূপীকৃত ত্রাণসামগ্রী, আর বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা বিমান সেনাদের দল—ছবিগুলোর প্রতিটি ফ্রেমেই ধরা পড়েছে ভারতের জরুরি সময়ে দ্রুত সাড়া দেওয়ার ক্ষমতা।

কলম্বো বিমানবন্দরে পৌঁছতেই শুরু মোতায়েন

শনিবার সকালেই কলম্বো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামে প্রথম লোড। ভারতীয় এয়ারফোর্সের সঙ্গে হাত মিলিয়ে লঙ্কান সেনা–কর্মীরাও ত্রাণ নামাতে সাহায্য করে। রানওয়েতে দাঁড়ানো IL-76–এর ছবি এখন ভাইরাল—তার সামনে ভারতীয় ও শ্রীলঙ্কান কর্মীদের যৌথভাবে উদ্ধার সরঞ্জাম নামানোর দৃশ্য বহু মানুষের প্রশংসা কুড়োচ্ছে।

ভারতের পাঠানো ২১ টনের ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে রয়েছে—

  • টেন্ট ও জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ সামগ্রী,
  • পানি পরিশোধক ও চিকিৎসা সরঞ্জাম,
  • স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন টুলস,
  • খাবার ও শুকনো রেশন,
  • জেনারেটর ও কাটিং সরঞ্জাম।

ইতিমধ্যে এই ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে কলম্বোর উপকূলবর্তী সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি জেলায়। বিশেষ করে সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় বাড়িঘর ভেঙে যাওয়ায় হাজার হাজার মানুষকে অস্থায়ী শেল্টারে রাখা হয়েছে।

“Neighbourhood First” নীতির বাস্তব উদাহরণ

ভারতের এই তৎপরতা শ্রীলঙ্কায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। লঙ্কার সরকার, সামরিক বাহিনী ও সাধারণ নাগরিকরা খোলাখুলিই ভারতের দ্রুত সাহায্যের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। প্রতিরক্ষা মহল বলছে—এভাবেই HADR (Humanitarian Assistance and Disaster Relief)–এ ভারতের নেতৃত্ব এশিয়া–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আরও সুদৃঢ় হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধুই ত্রাণ নয়—কূটনৈতিক বার্তাও। গত কয়েক বছর ধরে ভারত শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন দুর্যোগে পাশে থেকেছে—

  • ২০২২ সালের মারাত্মক বন্যা
  • ২০২১ সালের পরিবেশ দূষিত এক্স-প্রেস পার্ল জাহাজ বিপর্যয়
  • কোভিডকালে অক্সিজেন ও ভ্যাকসিন সহায়তা
  • তারপর এবার ঘূর্ণিঝড় দুর্যোগে ‘সাগরবন্ধু’ অভিযানে আবারও সামনে ভারত।

সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোড়ন—সহানুভূতি ও সমালোচনা পাশাপাশি

পোস্টের মন্তব্য বিভাগে দেখা যাচ্ছে প্রশংসার ঢল। অনেকে লিখেছেন—“এটাই ভারত—বন্ধুর পাশে প্রথম।” কিন্তু কিছু স্বর উঠেছে—“প্রতিবেশীরা কি ভারতকে সংকটে একইভাবে সাহায্য করবে?” এই reciprocity-র বিতর্ক নতুন নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, মানবিক সহায়তা কখনও লেনদেন হিসেবে দেখা উচিত নয়, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষার প্রয়োজনীয় দায়িত্ব হিসেবেই দেখা উচিত।

সিঁদুরের পর নতুন অধ্যায়

স্থলসীমান্তে নিরাপত্তা ও উদ্ধার সহযোগিতার সাফল্যের পর এবার সমুদ্র–পথে মানবিক সহায়তায় আরও জোর দিল ভারত। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন— “‘অপারেশন সিঁদুর’ ছিল স্থল–উদ্ধার কেন্দ্রিক। ‘অপারেশন সাগরবন্ধু’ তার সমুদ্র–ভিত্তিক সমতুল্য। ভবিষ্যতে ভারত মহাসাগর অঞ্চলের আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও মানবিক সহযোগিতাকে আরও শক্ত করতে এই ধরনের অপারেশন নিয়মিত হবে।”

প্রতিবেশী শ্রীলঙ্কা সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তে আছে—বাড়িঘর হারানো মানুষ, ভেঙে পড়া অবকাঠামো, জলের তলায় গ্রাম। আর ঠিক সেই সময়েই মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত অবিরাম কাজ করে ভারত যে সহায়তার হাত বাড়িয়েছে, সেটাই ‘অপারেশন সাগরবন্ধু’—প্রতিবেশীর প্রতি দায়িত্ববোধের বাস্তব বার্তা।