কলকাতা: গরমে এখনই হাঁসফাঁস অবস্থা? হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস বলছে, এ তো কেবল ট্রেলার! গরমের আসল খেলা এখনও অনেকটাই বাকি। চলতি এপ্রিল মাসেই নাভিশ্বাস ওঠা গরমের সাক্ষী থাকতে চলেছে দেশবাসী। মৌসম ভবনের লেটেস্ট আপডেট অনুযায়ী, আগামী ২-৩ দিনের মধ্যেই ভারতের বিস্তীর্ণ অংশে আছড়ে পড়তে চলেছে শক্তিশালী তাপপ্রবাহ বা হিটওয়েভ। যার ফলে আগামী ২-৩ সপ্তাহ ধরে তাপমাত্রা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়বে।
বাংলার হাওয়া-বদল: কলকাতা ও অন্যান্য শহরের কী অবস্থা?
তীব্র এই তাপপ্রবাহের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না বঙ্গও। কলকাতার জন্য লাল বা গাঢ় কমলা না হলেও হালকা কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অর্থাৎ, আগামী কয়েকদিনে তাপমাত্রা দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার পাশাপাশি মারাত্মক শুষ্ক আবহাওয়া তৈরি হবে তিলোত্তমায়। পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুরে গাঢ় কমলা সতর্কতা এবং খড়গপুরের জন্য গাঢ় হলুদ সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর।
দেশের কোথায় কেমন সতর্কতা?
বিশদ আবহাওয়া বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, মধ্য ও পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে সবচেয়ে বেশি গরম পড়বে। দিল্লি NCR অঞ্চলে এই মরশুমে প্রথমবারের মতো পারদ ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে। উত্তরপ্রদেশ ও রাজস্থানের কিছু অংশে তা ৪২-৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।
ইন্দোর, অমরাবতী, নাগপুর, ভিলাই, বিলাসপুর, সম্বলপুর এবং ভুবনেশ্বরে রয়েছে রেড অ্যালার্ট। ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত এই শহরগুলিতে তাপমাত্রা ৪২-৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ঘোরাফেরা করতে পারে।
উজ্জয়িনী, ভোপাল, সাগর, জবলপুর, সাতনা, গয়া, রাউরকেল্লা, জামশেদপুর এবং দুর্গাপুরে গাঢ় কমলা অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। হলুদ সতর্কতা রয়েছে পুরী ও খড়গপুরে। পাশাপাশি, ১৫-১৮ এপ্রিল মহারাষ্ট্রের বিদর্ভ এবং ১৫-১৭ এপ্রিল মধ্য মহারাষ্ট্র ও মারাঠাওয়াড়া অঞ্চলে তাপপ্রবাহের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
হঠাৎ এত গরম কেন? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
এপ্রিলের শুরুতে পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে বৃষ্টি হওয়ায় আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে শীতল ছিল। কিন্তু বর্তমানে আকাশ পুরোপুরি পরিষ্কার এবং বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা না থাকায় তীব্র গতিতে গরম বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপপ্রবাহ এখন আগে শুরু হচ্ছে এবং বেশি দিন স্থায়ী হচ্ছে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছতে পারে যে, এই গ্রীষ্ম অতীতের সমস্ত রেকর্ড (এমনকী ২০২৪ সালের রেকর্ডও) ভেঙে দিতে পারে।
কীভাবে সতর্ক থাকবেন?
তীব্র এই হিটওয়েভ থেকে বাঁচতে সাধারণ মানুষের জন্য বেশ কিছু নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে-
- প্রচুর পরিমাণে জল এবং ওআরএস (ORS) পান করুন।
- খুব প্রয়োজন ছাড়া দুপুরের কড়া রোদ এড়িয়ে চলুন।
- বাইরে বেরোলে ছাতা, টুপি এবং রোদচশমা ব্যবহার করুন।
- সুতির হালকা ও ঢিলেঢালা পোশাক পরুন।
- নিয়মিত IMD-র আপডেটে নজর রাখুন।




















