নয়াদিল্লি: ভারতের সবুজ গতিশীলতার যাত্রা দ্রুত এগিয়ে চলেছে। (India EV)বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি)-এর বাজারে ২০ শতাংশ অংশীদারিত্ব পেলে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশ তেল আমদানিতে প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকা সাশ্রয় করতে পারবে। ইতিমধ্যে ২০২৬ সালে ইভি-র বাজারে অনুপ্রবেশ ৮ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে।
এই অগ্রগতি জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানি নির্ভরতা কমাতে বড় ভূমিকা রাখবে।ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা খরচ হয় ক্রুড অয়েল আমদানিতে। ইভি-র ব্যবহার বাড়লে এই খরচ অনেক কমবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০ শতাংশ ইভি বাজার দখল করতে পারলে তেলের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
আরও দেখুনঃ ভারতের কল্পক্কমে চালু বিশ্বের প্রথম নিউক্লিয়ার তাপ-ভিত্তিক হাইড্রোজেন উৎপাদন কেন্দ্র
ফলে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ সুরক্ষিত থাকবে এবং অর্থনীতি মজবুত হবে। এর সঙ্গে পরিবেশ দূষণও কমবে। শহরের রাস্তায় ধোঁয়া কমে গেলে মানুষের স্বাস্থ্যের উন্নতি হবে।বর্তমানে ইভি-র অনুপ্রবেশ ৮ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়া এক বড় অর্জন। দুই চাকার যানবাহনে ইভি-র জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি। চার চাকার গাড়িতেও ধীরে ধীরে বাড়ছে আগ্রহ। সরকারের ফেম-৩ এবং অন্যান্য প্রকল্পের কারণে ক্রেতারা সাবসিডি পাচ্ছেন। অনেক কোম্পানি নতুন ইভি মডেল বাজারে আনছে। কিন্তু এই পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য নির্ভর করছে চার্জিং ইনফ্রাস্ট্রাকচারের দ্রুত সম্প্রসারণের উপর।
আরও দেখুনঃ এবার ভাঙনের আভাস শরদ পাওয়ারের দলে! NDA তে যোগ দিতে আগ্রহী সংখ্যাগরিষ্ট
বর্তমানে দেশে চার্জিং স্টেশনের সংখ্যা এখনও অপ্রতুল। দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রায় চার্জিংয়ের অসুবিধা অনেককে ইভি কিনতে দ্বিধায় ফেলছে। সরকার ও বেসরকারি সংস্থাগুলো এই সমস্যা সমাধানে কাজ করছে। হাইওয়েগুলোতে ফাস্ট চার্জিং স্টেশন বসানোর পরিকল্পনা চলছে। শহরাঞ্চলে অ্যাপার্টমেন্ট ও পাবলিক পার্কিংয়ে চার্জার বসানো হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০৩০ সালের লক্ষ্য পূরণ করতে হলে চার্জিং নেটওয়ার্ককে দ্রুত বিস্তার করতে হবে।
আরও দেখুনঃ অমরনাথ যাত্রা মাথায় রেখে তীর্থযাত্রীদের জন্য নয়া ট্রেন কেন্দ্রের
সরকারি উদ্যোগে ইতিমধ্যে হাজার হাজার চার্জিং পয়েন্ট বসানো হয়েছে। বেসরকারি কোম্পানিগুলোও বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। এই ইনফ্রাস্ট্রাকচার বাড়লে মানুষের আস্থা আরও বাড়বে।ইভি-র এই সাফল্য শুধু অর্থনৈতিক নয়, পরিবেশগতভাবেও গুরুত্বপূর্ণ।
কম কার্বন নির্গমনের ফলে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ভারতের অবদান বাড়বে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের ভাবমূর্তিও উজ্জ্বল হবে। সরকারের নীতি-নির্ধারকরা বলছেন, ইভি মিশনকে আরও গতি দেওয়ার জন্য নতুন প্রণোদনা আনা হবে। ব্যাটারি প্রযুক্তির উন্নয়ন, স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দক্ষতা বৃদ্ধিতে জোর দেওয়া হচ্ছে।


