Monday, January 30, 2023

নিরক্ষররা দেশের বোঝা, তাদের দিয়ে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়: অমিত শাহ

- Advertisement -

News Desk: দেশজুড়ে সমালোচিত হলেও নিজের বক্তব্য থেকে সরতে নারাজ অমিত শাহ। বুধবার এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, নিরক্ষরদের নিয়ে আমার করা মন্তব্যের অনেকেই সমালোচনা করেছেন। কিন্তু আমি সমালোচনায় ভয় পাই না। বরং যেটা সত্যি সেটাই বলেছি। আমি আবারও বলছি নিরক্ষর বা অশিক্ষিতদের নিয়ে কখনওই দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। যে মানুষ নিজের সাংবিধানিক অধিকার কী জানেন না তিনি কিভাবে দেশের প্রতি নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করবেন!

উল্লেখ্য, তিনদিনের জম্মু-কাশ্মীরে সফরে গিয়ে অশিক্ষিতদের নিয়ে একই কথা বলেছিলেন অমিত শাহ। জম্মুতে এক সভায় শাহ বলেছিলেন, নিরক্ষররা দেশের বোঝা। একজন অশিক্ষিত ব্যক্তিকে দিয়ে কখনওই দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। কারণ তিনি বোঝেন না সংবিধান তাঁকে কী কী অধিকার দিয়েছে। তেমনই তিনি জানেন না, দেশের প্রতি তাঁর দায়িত্ব এবং কর্তব্য কী। এ ধরনের মানুষ কখনওই দায়িত্বশীল নাগরিক হতে পারেন না।

শাহর এই মন্তব্য নিয়ে ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। নেটিজেনরা পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন, দেশের মানুষকে শিক্ষিত করে তোলার দায়িত্ব তো সরকারের। তাহলে সরকার কি নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে? সে কারণেই আজি দেশের প্রতিটি মানুষ শিক্ষিত হয়ে উঠতে পারেনি।

- Advertisement -

উল্লেখ্য সর্বশেষ আদমসুমারি থেকে জানা গিয়েছে, দেশের ৩০ শতাংশের বেশি মানুষ এখনও শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত। এই অশিক্ষিত মানুষরা অবশ্য বেশিরভাগই পরিস্থিতির চাপে পড়ে শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। চরম দারিদ্র্য ও কষ্টের কারণেই তাঁরা লেখাপড়া না শিখে কাজের দুনিয়ায় ভিড়ে গিয়েছেন। দেশের বহু প্রত্যন্ত এলাকায় আজও স্কুল কলেজ তৈরি হয়নি। বাড়ি থেকে বেশ কয়েক কিলোমিটার পায়ে হেঁটে স্কুলে যেতে হয়। তাই অনেকেই ছোটবেলায় স্কুল যাওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। সেকারণেই তাঁরা নিরক্ষর রয়ে গিয়েছেন। স্কুল-কলেজ, রাস্তাঘাট তৈরি করতে না পারা বা তার ব্যর্থতার দায়িত্ব তো সরকারের ঘাড়েই বর্তায়। তাহলে শাহ কি সরকারের ব্যর্থতার কথা এভাবেই স্বীকার করে নিচ্ছেন?

নেটিজেনরা কেউ কেউ আরও একধাপ এগিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরেও কিভাবে দেশের ৩০ শতাংশের বেশি মানুষ নিরক্ষর থেকে যায়? এই প্রশ্নের জবাব দিক সরকার। শিক্ষার বিস্তার না হলে কখনওই দেশের উন্নয়ন ঘটবে না এটা ঠিক। কিন্তু সেই শিক্ষার বিস্তারে সরকারের ভূমিকা কী ছিল, সরকার কতটা তার দায়িত্ব পালন করতে পেরেছে বা পারেনি সেটা শ্বেতপত্র প্রকাশ করে প্রকাশ্যে আনুন শাহ।

পাশাপাশি রাজনীতিবিদরা বলেছেন, শব্দচয়নের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আরও অনেক যত্নবান হওয়া দরকার। মনে রাখতে হবে অশিক্ষিতরাও দেশের নাগরিক। নাগরিক হিসেবে অশিক্ষিতদেরও শিক্ষিতদের মতো যথাযথ সম্মান পাওয়ার অধিকার আছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিভাবে এই কথাটি ভুলে গেলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এধরনের মন্তব্য অসম্মানজনক। শুধু তাই নয়, শাহ তাঁর মন্তব্যে কার্যত সরকারের ব্যর্থতাকেই সামনে এনেছেন।