
হরিদ্বার: ২০২৭ সালের অর্ধকুম্ভ মেলাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল উত্তরাখণ্ডের রাজনীতি। পবিত্র হরিদ্বারের গঙ্গার ঘাটগুলিতে অহিন্দুদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার দাবি তুললেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (VHP) নেত্রী সাধ্বী প্রাচী। নিরাপত্তার কারণ এবং তীর্থস্থানের পবিত্রতা রক্ষার দোহাই দিয়ে এই দাবি জানিয়েছেন তিনি।
“অমৃত ক্ষেত্র” ঘোষণার দাবি
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সাধ্বী প্রাচী বলেন, কুম্ভ মেলা এলাকা এবং বিশেষ করে ‘হর-কি-পৌরি’কে ‘অমৃত ক্ষেত্র’ হিসেবে ঘোষণা করা উচিত। সেখানে অহিন্দুদের প্রবেশে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের সওয়াল করেন তিনি। মক্কা এবং মদিনায় অমুসলিমদের প্রবেশে যেভাবে নিষেধাজ্ঞা থাকে, হরিদ্বারেও তেমন নিয়ম থাকা উচিত বলে তিনি মনে করেন।
নিরাপত্তা ও “জিহাদি” আশঙ্কার অভিযোগ Haridwar Ganga ghats non-Hindu ban
সাধ্বী প্রাচীর দাবি, পবিত্র স্থানগুলিতে তথাকথিত “জিহাদি কার্যক্রম” বাড়ছে যা বড় ধর্মীয় সমাবেশে বিপদের কারণ হতে পারে। গত বছর দিল্লির লাল কেল্লার কাছে হওয়া ভয়াবহ গাড়ি বিস্ফোরণের (যাতে ১৫ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন) প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “বিস্ফোরণে ব্যবহৃত অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট যদি গঙ্গার জলে মিশিয়ে দেওয়া হয়, তবে কোটি কোটি পুণ্যার্থীর জীবন বিপন্ন হতে পারে।”
সরকারের কাছে জোরালো দাবি
আগামী ১৪ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে শুরু হতে চলা ৪৫ দিনব্যাপী এই অর্ধকুম্ভ মেলায় প্রায় ৬ থেকে ৭ কোটি পুণ্যার্থীর সমাগম হবে বলে মনে করছে উত্তরাখণ্ড সরকার। এই ভিড়ের কথা মাথায় রেখে সাধ্বী প্রাচীর দাবি-
- কুম্ভ মেলা এলাকায় অহিন্দুদের প্রবেশ রুখতে আইন প্রণয়ন করতে হবে।
- হরিদ্বার সংলগ্ন এলাকায় অহিন্দুদের সম্পত্তি কেনাবেচায় বিধিনিষেধ জারি করতে হবে।
- অবৈধ মাদ্রাসা ও মাজারের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামির কড়া পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে মেলা প্রাঙ্গণে আরও কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে।
উত্তরাখণ্ড সরকার এই বিতর্কিত দাবি নিয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে কুম্ভ মেলার আগে এই ধরণের দাবি সাম্প্রদায়িক মেরুকরণকে আরও উসকে দিতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।










