গুয়াহাটি: গুয়াহাটিতে এক বিশাল অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫৫ কোটি টাকা মূল্যের ৩৭ কেজি সোনা উদ্ধার করল পুলিশ। এই ঘটনায় মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা ৩২ বছর বয়সী অক্ষয় বনসোড়ে নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ সোনা উদ্ধারের ঘটনা অসমের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন খবরের ভিত্তিতে অসমের রাজধানী গুয়াহাটির খারঘুলি এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। সেখানেই উদ্ধার হয় ৩৭ কেজি ওজনের ২৪ ক্যারেট সোনা। সোনা ছাড়াও পাচারকারীর কাছ থেকে চারটি মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত অক্ষয় গত দুই মাস ধরে গুয়াহাটিতেই অবস্থান করছিল।
আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের যোগসূত্র?
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ধৃত অক্ষয় এর আগেও প্রায় ২০ কেজি সোনা পাচার করেছে। বর্তমানে তার সঙ্গে কোনো আন্তর্জাতিক সোনা পাচারচক্রের যোগাযোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ধৃতের বাজেয়াপ্ত করা চারটি মোবাইল ফোন এবং ডিজিটাল ডিভাইসগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এর মাধ্যমে পাচারকারীর কল রেকর্ড, আর্থিক লেনদেন এবং তার সম্ভাব্য সহযোগীদের সম্পর্কে তথ্য জোগাড়ের চেষ্টা চলছে।
VIDEO | Assam: Guwahati Police seized 37 kg of 24-carat gold worth Rs 55 crore and recovered four mobile phones during a search operation in Kharghuli, arresting 32-year-old Akshay Bansode from Maharashtra. Police said he had been staying in Guwahati for two months, had allegedly… pic.twitter.com/6CybaroW3k
— Press Trust of India (@PTI_News) June 30, 2026
তদন্তে পুলিশ
এই বিপুল পরিমাণ সোনা কোন পথে এবং কোথা থেকে আনা হয়েছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ জানিয়েছে, সোনা পাচারের পেছনে কোনো বড় মাপের সংগঠিত চক্র কাজ করছে কি না, তা নিয়ে জোর তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, তদন্ত এখন প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ধৃতের যাতায়াতের ইতিহাস (travel history) এবং আর্থিক নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় আরও গ্রেফতারি হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না তদন্তকারীরা।
তদন্তের স্বার্থে সাধারণ মানুষকে কোনো প্রকার গুজব না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে গুয়াহাটি পুলিশ। বর্তমানে ধৃতকে জেরা করে এই পাচারচক্রের জাল কতদূর বিস্তৃত, তা জানার চেষ্টা করছেন গোয়েন্দারা। অসম পুলিশের এই সাফল্যের ফলে অবৈধ সোনা পাচারের চক্রের ওপর বড় ধরনের আঘাত আসবে বলেই মনে করা হচ্ছে।




