
দেরাদুন: দেশজুড়ে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বেড়ে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। (Gobar gas)এই আবহেই উত্তরাখণ্ডের দুই ভাইয়ের এক অসাধারণ উদ্ভাবন সকলের মনে নতুন আশা জাগিয়েছে। দুই ভাই মিলে গোবর থেকে পরিবেশবান্ধব ‘গোবর গ্যাস সিলিন্ডার’ তৈরি করেছেন, যেখানে মাত্র ৫০০ টাকায় পাওয়া যাবে ১৮ কেজি গ্যাস। ৩০ কেজি ওজনের এই সিলিন্ডারে ১৮ কেজি ব্যবহারযোগ্য গ্যাস থাকে এবং এটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক, বিষমুক্ত ও পরিবেশবান্ধব।
উত্তরাখণ্ডের এই দুই ভাই, যাঁদের অনেকে ‘সাধু ভাই’ বলে সম্বোধন করছেন, দীর্ঘদিন ধরে গ্রামীণ জীবন ও প্রকৃতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। তাঁরা দেখেছেন, গ্রামের ঘরে ঘরে গোবরের অভাব নেই, অথচ এই গোবরকে শুধু খাদ্য সার হিসেবেই ব্যবহার করা হয়। এই সম্পদকে কাজে লাগিয়ে তাঁরা একটি সহজ ও সাশ্রয়ী প্রযুক্তি তৈরি করেছেন, যেখানে গোবরকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় প্রক্রিয়াজাত করে কম্প্রেসড বায়োগ্যাসে রূপান্তরিত করা হয়।
আরও দেখুনঃ মালদার ঘটনায় ধৃতদের NIA-র হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের
ফলে তৈরি হয় রান্নার গ্যাস, যা এলপিজির মতোই কাজ করে, কিন্তু দামের তুলনায় অনেক সস্তা এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর নয়।এই উদ্ভাবনের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর সাশ্রয়ী মূল্য। বর্তমানে বাজারে একটি সাধারণ ১৪.২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৯০০-১১০০ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করে। আর এই গোবর গ্যাস সিলিন্ডারে ১৮ কেজি গ্যাস মাত্র ৫০০ টাকায় পাওয়া যাবে। গ্রামের গৃহিণীরা, যাঁরা প্রতি মাসে গ্যাসের খরচ নিয়ে চিন্তায় থাকেন, তাঁদের জন্য এটি এক আশীর্বাদ।
শুধু তাই নয়, এই গ্যাস তৈরিতে কোনো জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার হয় না, ফলে কার্বন নির্গমন অনেক কম। পরিবেশবিদরা বলছেন, এ ধরনের উদ্যোগ ভারতের ‘গোবর্ধন’ প্রকল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং দেশকে স্বনির্ভর জ্বালানির দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে।দুই ভাইয়ের এই প্রচেষ্টা শুধু ব্যবসায়িক নয়, বরং সমাজসেবামূলক। তাঁরা চান গ্রামের গোবরকে অপচয় না করে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে। একটি সিলিন্ডার তৈরি করতে যে গোবর লাগে, তা একটি সাধারণ গ্রামীণ পরিবারের কয়েকদিনের উৎপাদন থেকেই সংগ্রহ করা সম্ভব।
এতে গ্রামের মানুষজন নিজেরাই গ্যাস তৈরির ছোট ছোট ইউনিট স্থাপন করতে পারবেন এবং স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থানও তৈরি হবে।উত্তরাখণ্ড সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন সবুজ জ্বালানি প্রকল্পের সঙ্গে এই উদ্ভাবন মিলিয়ে দেখলে মনে হয়, ভারত ধীরে ধীরে জৈব জ্বালানির দিকে এগোচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রযুক্তিকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিতে হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা, নিরাপত্তা যাচাই এবং সরকারি স্বীকৃতি দরকার।
গ্যাসের বিশুদ্ধতা, সিলিন্ডারের নিরাপত্তা এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারযোগ্যতা নিয়ে আরও গবেষণা চলছে।সাধারণ মানুষের মধ্যে এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। অনেকে বলছেন, “যদি এটি সত্যি হয়, তাহলে গ্রামের দরিদ্র পরিবারগুলোর জীবন অনেক সহজ হয়ে যাবে।” কেউ কেউ আশা করছেন, এই উদ্ভাবনকে সরকারি স্তরে উৎসাহিত করা হবে যাতে সারা দেশে এর উৎপাদন শুরু হয়।

