ভারতে ঢুকে ষড়যন্ত্র! ৭ বিদেশিকে চরম শাস্তির পথে আদালত

foreign-nationals-drone-training-case-india-nia

নয়াদিল্লি: জাতীয় তদন্ত সংস্থা (NIA)-র হাতে ধরা পড়া ছয় (Foreign nationals)ইউক্রেনীয় ও একজন আমেরিকান নাগরিকের ঘটনা দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এনআইএ আদালত সোমবার এই সাত বিদেশিকে ৩০ দিনের জুডিশিয়াল কাস্টডিতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এঁরা পর্যটক ভিসায় ভারতে এসে মিজোরামের সুরক্ষিত এলাকায় অবৈধভাবে প্রবেশ করেন, তারপর মায়ানমারে ঢুকে সেখানকার জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন এবং তাদের ড্রোন যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দেন।

এনআইএ সূত্র জানিয়েছে, অভিযুক্তরা ভারতে বৈধ ভিসা নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু তারা মিজোরামে গিয়ে রেস্ট্রিক্টেড এরিয়া পারমিট (RAP) ছাড়াই সুরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ করেন। সেখান থেকে অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে মায়ানমারে ঢোকেন। মায়ানমারে গিয়ে তাঁরা দেশটির বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর (Ethnic Armed Groups) সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এই গোষ্ঠীগুলো ভারতের সক্রিয় বিদ্রোহী সংগঠনগুলোর সঙ্গে যুক্ত বলে এনআইএ দাবি করেছে।

   

আরও দেখুনঃ লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে নতুন নাম নথিভুক্ত তালিকা নিয়ে বিশেষ ঘোষণা মমতার

অভিযুক্তরা নিজেরা মায়ানমারে প্রশিক্ষণ নিয়ে এসেছিলেন এবং সেখানকার গোষ্ঠীগুলোকে ড্রোন চালনা, অস্ত্র ব্যবহার ও আধুনিক যুদ্ধকৌশল শেখাতেন।সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এঁরা ইউরোপ থেকে বিপুল সংখ্যক ড্রোনের চালান ভারত হয়ে মায়ানমারে পাঠিয়েছেন। এই ড্রোনগুলো ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিদ্রোহীদের কাছে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এনআইএ তদন্তে উঠে এসেছে যে, এই নেটওয়ার্কটি শুধু মায়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতে সাহায্য করছিল না, বরং ভারতের নিরাপত্তার জন্যও হুমকি তৈরি করছিল।

অভিযুক্তদের মধ্যে আমেরিকান নাগরিক ম্যাথিউ অ্যারন ভ্যানডাইক নামে পরিচিত একজন মার্কিন ভেটেরানও রয়েছেন, যিনি আগে বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ এলাকায় সক্রিয় ছিলেন বলে খবর।এনআইএ আদালতে জমা দেওয়া রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই বিদেশিরা ভারতকে ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করে মায়ানমারের বিদ্রোহীদের সাহায্য করছিলেন। মিজোরামের সীমান্ত এলাকা দিয়ে এই ধরনের অবৈধ যাতায়াত দীর্ঘদিন ধরে চলছিল।

তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছেন, অভিযুক্তরা শুধু প্রশিক্ষণই দিচ্ছিলেন না, ড্রোন সরবরাহের মাধ্যমে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলছিলেন। এতে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, মিজোরাম-মণিপুর সীমান্তের দুর্বলতা এবং মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাত ভারতের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

বিদেশি নাগরিকদের এভাবে অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে যাওয়া এবং বিদ্রোহীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া গুরুতর নিরাপত্তা লঙ্ঘন। এনআইএ এখন পুরো নেটওয়ার্কের খোঁজ করছে কারা এদের অর্থায়ন করছে, কোন কোন ভারতীয় সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল, এবং আরও কোনো বিদেশি জড়িত কি না।